চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পোল্ট্রি শিল্পে আরও তিনগুন বিনিয়োগ সম্ভব। পুঁজির নিরাপত্তা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অনেক ব্যবসায়ী বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন, ফলে চট্টগ্রামের চাহিদা মেটাতে আশপাশের জেলার উপর নির্ভর করতে হবেনা।
শনিবার চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি হোটেলে পোল্ট্রি রিপোর্টিং বিষয়ক মিডিয়া কর্মশালায় গণমাধ্যম ও পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী এবং সরকারি কর্মকর্তারা এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটি (বিপিআইসিসি) এর সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা ওয়াচডগ বাংলাদেশ এ কর্মশালার আয়োজন করে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মোট ৩০ জন সাংবাদিক এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ড. আলাউদ্দিন মজুমদার বলেন, প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম ও মুরগির মাংসের তুলনা হয়না। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্রয়লার মুরগি খুবই জনপ্রিয়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, চট্টগ্রামের মেজবানের মাধ্যমেই ব্রয়লার মুরগির জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৬শ খামার আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ব্রয়লার এবং ১৬০০ লেয়ার খামার।
তিনি বলেন, ২০০৫ সালে বার্ড-ফ্লু বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় ঘটিয়েছিল। কিন্তু প্রকারান্তরে বার্ড-ফ্লুই এ শিল্পের জন্য আশির্বাদ হয়েছে। কারণ খামারিরা এখন বায়োসিকিউরিটি এবং স্বাস্থ্য-সম্মত পরিবেশ বিষয়ে অনেক বেশি সজাগ হয়েছে। আর এ কারণেই ডিম ও মাংসের মান অনেক বেড়েছে।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় (সিভিএএসইউ) এর প্রফেসর ড. একেএম সাইফুদ্দিন বলেন, পোল্ট্রি ডিম ও মুরগির মাংস সম্পর্কে সাধারণের মাঝে অনেক ভুল ধারনা আছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে যেখানে খামারিদের জন্য নিবিড় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। তাছাড়া পাশ্ববর্তী দেশ এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও গবেষণা কাজে ছাত্র-ছাত্রীরা সিভিএএসইউ আসে আবার বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরাও সেখানে নিয়মিত যাচ্ছেন। এতে অভিজ্ঞতার বিনিময় ঘটছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পরিচালক রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন, মাত্র ৩০০ মুরগি নিয়ে খামার শুরু করে এখন তিনি সপ্তাহে প্রায় আড়াই লাখ বাচ্চা উৎপাদন করছেন। চাহিদার কারণে ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন প্রতি মাসেই বাড়ছে। ২০২১ সাল নাগাদ এ চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হবে।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের পোল্ট্রি শিল্পে নতুন এক ট্রেন্ড চালু হয়েছে। ‘পুঁজি তোমার, মেধা আমার’ – এ তত্ত্বের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ অনেক অভিজ্ঞ খামারিই এখন পুঁজিপতিদের সাথে এক হয়ে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চট্টগ্রামের পোল্ট্রি শিল্পে বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান আলী আর রাজী বলেন, সাংবাদিকতা করতে হবে দেশের মানুষের প্রয়োজনে। তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সংবাদ সংগ্রহের উপর জোর দেন।
যমুনা টেলিভিশনের বিজনেস এডিটর সাযযাদ আলম খান তপু বলেন, বিজনেস রিপোর্টিং এর গুরুত্ব বাড়ছে। পোল্ট্রি শিল্পের অগ্রগতি, বিনিয়োগ, খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে এ শিল্পের অবদানের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বিজনেস রিপোর্টিং এর ক্ষেত্রেও পোল্ট্রি গুরুত্ব পাচ্ছে।