২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, বুধবার

‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখতে চান’

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১, ২০১৮, ১০:৪০ অপরাহ্ণ

ঢাকাঃ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে গণভবনে চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের সংলাপ। সংলাপে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বলেন,  ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখতে চান। কে হতে চান বলুন।’ স্বভাবসুলভ কৌতুকের সুরেই তিনি এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় শুরু হওয়া সংলাপ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলছে বলে গণভবন সূত্রে জানা গেছে।

গণভবন সবার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণভবন সকলের। এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। সংবিধান সম্মত সকলের প্রতিটি প্রস্তাব আমি গুরুত্ব সহকারে শুনতে আগ্রহী।’ এসময় তার আমন্ত্রণে গণভবনে আসার জন্য ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ধন্যবাদ জানান ।

সংলাপে আসন্ন নির্বাচন কীভাবে হতে পারে , ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি সংবিধান সম্মতভাবে কীভাবে আমলে নেয়া যায় সে ব্যাপারেও উভয়ের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংলাপে নির্বাচনকালীন সময়ে সংসদ ভেঙে দেয়া ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তি বিষয়ে আলোচনা করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। সংলাপে আলোচনায় অংশ নেয়া ঐক্যফ্রন্টের ২০ নেতাই বক্তব্য রাখেন। তারা প্রত্যেকে ৫-১০ মিনিট করে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান।

যদিও সংলাপে যাওয়ার আগে বিকেলে কামাল হোসেনের বাসায় সিদ্ধান্ত ছিল ৫ নেতা ছাড়া কেউ বক্তব্য রাখবেন না। এমনকি গণভবনে নৈশভোজেও অংশ নিবেন না। তবে গণভবনে গিয়ে সে অনড় অবস্থান অনেকটাই নমনীয় হয়। অংশ নিয়েছেন নৈশ ভোজেও। যেখানে ২০ পদে আপ্যায়িত হন তারা।

এদিকে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের পক্ষ থেকে সংলাপে ওবায়দুল কাদের ছাড়াও বক্তব্য রাখেন হাসানুল হক ইনু, মঈন উদ্দিন খান বাদল। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে সোয়া ৫টায় ড.কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসা থেকে রওনা হয়ে ৬টা ৪০ মিনিটে গণভবনে পৌঁছান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।এসময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ , জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে সক্রিয় জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক দুই সংসদ সদস্য এসএম আকরাম ও সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মহসিন মন্টু, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক এবং শফিক উল্লাহ।

অন্যদিকে সংলাপে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রয়েছেন- ২৩ জন প্রতিনিধি, এর মধ্যে আওয়ামী লীগের জোট শরিক দলগুলোর নেতারাও আছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, মো. আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, আবদুল মতিন খসরু, রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাসদের একাংশের সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল।

গত রোববার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে সাত দফা দাবি এবং ১১টি লক্ষ্য সংবলিত চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার সকালে সে চিঠির জবাব আসে ড. কামালের বাসায়।

এরপর বিকল্পধারার পক্ষ থেকেও সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হয়। আগামীকাল ২ নভেম্বর গণভবনে বিকল্পধারার সঙ্গেও সংলাপে বসবে ১৪ দল। একই ধারাবাহিকতায় অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সংলাপের কথা রয়েছে।

একুশে/আরএইচ