বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

ক্ষমতায় এলে সংবিধান সংশোধনী : ড. কামাল

| প্রকাশিতঃ ১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৬:৩৭ অপরাহ্ন

ঢাকা : ক্ষমতায় এলে সংবিধান সংশোধনীর কথা জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। নির্বাচনী ইশতেহার সংবিধানকে সামনে রেখে তৈরি করা হচ্ছে এবং তা আগামী দুই এক দিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে ; বলেন তিনি। এসময় তিনি নির্বাচন কমিশনারের কঠোর সমালোচনাও করেন।

শনিবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এইসব কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা হবে গণতান্ত্রিক। এগুলোর মধ্যে তো আমাদের মূল কাঠামো। যার মধ্য থেকে আমরা রাজনীতি করতে চাই। জনগণ সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে। যদি জনমতের আলোকে সংবিধানের ঘাটতি পূরণ করতে প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তখন জনগণ যে মতামত দেবে সেই অনুযায়ী সংবিধানে সংশোধনী এনে ঘাটতি দূর করা হবে।

ড. কামাল আরও বলেন, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সবাই বললো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। সেই কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান করা হলো। সুতরাং আমরা যারা আজকে নির্বাচনে যাচ্ছি তারা বিশ্বাস করি জনগণ সব ক্ষমতার মালিক। ক্ষমতায় গেলে সংবিধান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা একশ’ভাগ পালন করতে হবে। যা কিছু হবে জনগণের মতামত নিয়ে।

তিনি বলেন, সকল পর্যায়ে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন, তারা নির্বাচিত হবেন। কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায়ে সবাই নির্বাচিত হবে। সেটা তো আমাদের সংবিধানে বলা আছে। অর্থাৎ আমাদের নতুন করে কোনও রাজনীতি করতে হবে না। সেটাকে আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে রাজনীতি করি।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি নিতে হবে, তবে কোনও ছবি কিংবা ভিডিও করা যাবে না বলে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দেশনার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. কামাল হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কোর্টে যেতে পারি।

নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তো নিজেই সংবিধান অমান্য করছে। সংবিধান তাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে তা অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। ফলে আপনাদের আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে যে বা যিনি আইন অমান্য করবে তাদের ধরিয়ে দেওয়া।

লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, নিরপেক্ষভাবে, স্বাধীনভাবে, দলীয় আনুগত্য ও ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে ওঠে নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালন করুন। আমি দেশের সমস্ত জনগণ এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ করবো সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ সব কর্মকর্তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান, আপনারা দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে ওঠে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। যদি জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ দেশ ও সরকারের ওপর তাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে। নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ঐক্যফ্রন্টের সব দলই এ ব্যাপারে সচেতন। যাচাই-বাছাইয়ের পর দেশের সব আসনেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একক প্রার্থী নির্ধারিত হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশা করবো ড. কামাল হোসেনের এই সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে সব ধরনের গ্রেপ্তার বন্ধ হবে। অন্যথায় নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নতুন কার্যালয় নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব। নতুন কার্যালয়ের ঠিকানা পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারের চতুর্থ তলা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

একুশে/ডেস্ক/এসসি