বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কমেছে হাছান মাহমুদের

| প্রকাশিতঃ ২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১২:০৯ অপরাহ্ন

রাকীব হামিদ : পাঁচ বছরে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ কমেছে চট্টগ্রাম-৭ আসনের বর্তমান সাংসদ ড. হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রী নুরান ফাতিমার।

২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনী হলফনামায় স্থাবর-অস্থাবর মিলে ড. হাছান মাহমুদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে স্থাবর-অস্থাবর মোট সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ৫ বছরে সম্পদ কমেছে ৪ কোটি ২৩ লাখ টাকার।

আসন্ন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

এর আগে ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার কয়েকমাস পরে তাঁকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এরপর সরকারের ৩ বছরের মাথায় পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

সর্বশেষ, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর তিনি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নিযুক্ত হয়ে এখনো সে পদে বহাল আছেন।

এক-এগারোর সময় সময় দলের সিনিয়র অনেক নেতা যখন কারাগার কিংবা আত্মগোপনে তখন কারারুদ্ধ শেখ হাসিনার বিশ্বস্থ সিপাহশালার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন হাছান মাহমুদ।

হলফনামায় দেয়া তথ্য অনুযায়ী, হাছান মাহমুদের বার্ষিক আয় ২৬ লাখ ৬২ হাজার ৬০৩ টাকা। ভাইয়ের কাছ থেকে দেনা ও গাড়ির ঋণসহ এক কোটি ২১ লাখ টাকা দায় রয়েছে এমপি হাছান মাহমুদের।

অন্যদিকে তার স্ত্রীর নুরান ফাতিমার আয় বছরে ২৪ লাখ ৭৮ হাজার ২২৫ টাকা। ২০১৪ সালের তুলনায় স্ত্রীর বার্ষিক আয় কমে দাঁড়িয়েছে ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায়। একই সঙ্গে ২০১৪ সালের হলফনামায় স্ত্রীর দুটি গাড়ি থাকলেও বর্তমানে গাড়ি আছে ১টি। এছাড়া বর্তমানে স্ত্রীর দেনা বা ঋণ আছে সাড়ে ৭ কোটি টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থাবর-সম্পত্তির মধ্যে ড. হাছান মাহমুদের অন্যতম উৎস সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানী। বছরে সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী হিসেবে ২৪ লক্ষ টাকা পেয়ে থাকেন তিনি। এর মধ্যে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা পান বাড়িভাড়া বাবদ। তার বার্ষিক আয়ের মূল আয় বলতে এটিই।

এদিকে স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ঢাকায় ৩ হাজার ৫শ’ বর্গফুটের একটি অফিস ছিল তার। ২০১৪ সালে সেটি তার মালিকানায় থাকলেও সম্প্রতি তা বিক্রি করে দেয়া হয়।

বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস নামে আওয়ামী লীগের এই সাংসদের ব্যক্তিগত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মালিকানায় ড. হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রী। যদিও ২০০৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় রয়েছেন তার স্ত্রী নুরান ফাতিমা। এই প্রতিষ্ঠানের নামে রাঙ্গুনিয়া ৩ একর জায়গা ক্রয় করা হয়। ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় তা উল্লেখ রয়েছে। তবে বর্তমানে সেই জায়গার কিছু অংশের মালিকানা একটি এতিমখানার। যা হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রী দান করেছেন।

পৈতৃক সূত্রে রাঙ্গুনিয়ায় ইছাখালীতে হাছান মাহমুদের নামে ৩১০ শতক বা ৩.১০ একর জায়গার রয়েছে। ২০১৪ সালের হলফনামায় ভুলবশত এই সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখ করা হয় ৩১০ একর।

এছাড়া চট্টগ্রাম নগরের সিরাজদৌল্লা রোডে ৫.৬ কাঠা জায়গা ডেভেলপার কোম্পানিকে হস্তান্তর করেছেন। পাশাপাশি একই জায়গায় তার স্ত্রীর দেড় কাঠা জায়গা রয়েছে। সেটিও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে। দুটিতেই বর্তমানে ভবন নির্মাণাধীন।

সম্পত্তি কমে যাওয়ার কারণ জানতে ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে এ ব্যাপারে তার ব্যক্তিগত সহকারী এমরুল করিম রাশেদ বলেন, নানা কারণে তিনি সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপর নতুন করে কোনো সম্পত্তি ক্রয় করেননি। ফলে সম্পত্তির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কমেছে।

একুশে/আরএইচ/এটি