২৫ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, সোমবার

প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখে হামলার বর্ণনা ও হামলাকারির ভিডিও ‘লাইভ’

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মার্চ ১৫, ২০১৯, ১:২৯ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীদের নগ্ন হামলাকে প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে এমনটা হচ্ছিল বলে মনে করেছিলেন।

আল নূর মসজিদ এলাকায় ইব্রাহিম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় প্রভাবশালী দৈনিক নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেন, “শুরুতে আমি ভেবেছিলাম বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে এমনটা হচ্ছে। পরে দেখি সবাই দৌড়াতে শুরু করেছে।

পরে তিনিও প্রাণে বাঁচাতে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। মসজিদের বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় লোকজনকে পড়ে থাকতে দেখার কথাও জানান তিনি। এখনো তার বন্ধুদের কয়েকজন মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন বলে তিনি জানান।

অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হামলাকারী সামরিক বাহিনীর মত পোশাক পরে ছিল। হাতে থাকা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে সে ক্রামগত গুলি ছুড়তে থাকে।

এছাড়া আল নূর মসজিদে হামলাকারী তার হেলমেটে বসানো ক্যামেরায় গুলি চালানোর পুরো দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছেন।

প্রায় ১৭ মিনিটের ওই লাইভে অটোমেটিক রাইফেলধারী ওই ব্যক্তি নিজের নাম বলেছেন ‘ব্রেন্টন ট্যারেন্ট’। ২৮ বছর বয়সের শেতাঙ্গ ওই হামলাকারীর জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়।

বন্দুকধারী ক্রাইস্টচার্চের ডিন্স এভিনিউতে আল নূর মসজিদের দিকে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় ‘লাইভ’ শুরু হয়। একটি ড্রাইভওয়ের কাছে তিনি গাড়ি পার্ক করেন। গাড়িতে চালকের পাশের আসনে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রচুর গুলি দেখা যায়। সেখানে পেট্রোল ভর্তি কয়েকটি ক্যানও ছিল।

ওই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মসজিদের দিকে হাঁটতে শুরু করে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মসজিদে ঢোকার পথেই সে একজনকে গুলি করে। ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করে।

সে বেশ কয়েকবার তার সেমি-অটোমেটিক রাইফেলটিতে গুলি ভরে এবং এলোপাতাড়ি গুলি করে।

এভাবে প্রায় তিন মিনিট ধরে গুলি করার পর সে মসজিদের সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়। রাস্তায় দিকে যাওয়ার সময় সে আশেপাশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হামলার ভিডিও সরিয়ে নিতে কাজ করছে কেন্টাবুরি পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে ওই ভিডিও শেয়ার না করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, “ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনার চরম বিপর্যয়কর ভিডিওগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে পুলিশ সচেতন এবং সেগুলো সরিয়ে নিতে কাজ করছে।”

ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ বন্দুকধারীর ফেইসবুক ও ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট সরিয়ে ফেরার কথা জানিয়েছে। টুইটার থেকেও ওই ব্যক্তির একাউন্ট মুছে দেওয়া হয়েছে।

একুশে/আন্তর্জাতিক ডেস্ক/এটি