চট্টগ্রাম: তিন দিন ধরে চলা প্রাইম মুভার ট্রেইলর মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বাণিজ্য অচল হয়ে পড়েছে। গত সোমবার থেকে ধর্মঘট শুরুর পর কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যত বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রাইভেট আইসিডি থেকে কিছু রফতানি কনটেইনার বন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। তবে বুধবার ভোর ৬টা থেকে রফতানি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে পরিবহন ফের বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে ধর্মঘটের অবসান ঘটিয়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং স্বাভাবিক করার জন্য নানা চেষ্টা চালালেও সফল হচ্ছেনা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ধর্মঘট আহবানকারী সংগঠনের নেতারা দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যেতে অনড়।
জানা গেছে, দেশের মহাসড়ক, সড়ক ও সেতুর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর জন্য ১৬ আগস্ট জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গাড়িভেদে পণ্য পরিবহনের পরিসীমা বেঁধে দেয়। এতে বলা হয়- নির্ধারিত পরিসীমা অতিক্রান্ত হলেই গাড়িগুলোকে স্তরভেদে ২ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়ি প্রাইমমুভার ট্রেইলর ৩৩ টন পর্যন্ত মালামাল পরিবহন করতে পারবে। এরপর গত শনিবার থেকে এ প্রজ্ঞাপন কার্যকর করা হয়।
প্রাইমমুভার ট্রেইলর মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সদস্যসচিব মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি ওজন স্কেলে শতাধিক গাড়ি আটকা পড়েছে। কমবেশি সব গাড়িকেই ২ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা করে জরিমানা গুনতে হচ্ছে। জরিমানা না দেওয়ায় শ্রমিকদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই সোমবার থেকে কর্মবিরতির ডাক দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, গাড়ি ও কনটেইনারের ওজন বাদ দিলে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১৪ চাকার গাড়িতে সর্বোচ্চ ১৩-১৪ টন পণ্য পরিবহন সম্ভব। কিন্তু কনটেইনারে এর চেয়ে বেশি পণ্য থাকে। এই নিয়ম কার্যকর করতে হলে বন্দর থেকেই করতে হবে। মাঝপথে পণ্য নেওয়ার পর নিয়ম কার্যকর করায় ভোগান্তি পড়েছে চালক-শ্রমিকরা।
এদিকে বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় এমভি এক্স ওরশোলা নামে একটি জাহাজ ১৭৭ কনটেইনার রেখে বন্দর ত্যাগ করে। এছাড়া একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় ৬৭০ ও ৫১ কনটেইনার রেখে বন্দর ছেড়ে যায় এক্সপ্রেস লর্ডসি এবং ওইএল কলম্বো নামে আরো দুই জাহাজ। বুধবারও আরো দুটি জাহাজ বেশ কিছু রফতানি কনটেইনার না নিয়ে বন্দর ত্যাগ করে। প্রাইভেট আইসিডি থেকে বন্দর ইয়ার্ডের জেটিতে পৌঁছতে না পারায় জাহাজগুলো কনটেইনার না নিয়ে বন্দর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সদস্যসচিব মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃৃপক্ষের অনুরোধে কিছু কিছু পণ্যের কনটেইনারের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সংক্রান্ত বৈঠকে বিভিন্ন অফ ডকে আটকে পড়া রফতানি পণ্য ভর্তি কনটেইনারগুলো মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সময়ে বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বুধবার দিনভর ধর্মঘট অব্যাহত ছিল।
এদিকে কনটেইনার বোঝাই না করেই বিদেশী বন্দরের উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করছে জাহাজ। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রাইভেট আইসিডি মালিক সমিতির সচিব রহুল আমিন শিকদার জানান, সব ধরনের কনটেইনার হ্যান্ডলিং বন্ধ। প্রতিদিন গড়ে এক হাজার কনটেইনার ফেলে বন্দর ত্যাগ করছে জাহাজ। এতে রফতানি বাণিজ্যে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।