মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

ফ্লাইওভারে যৌক্তিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে

| প্রকাশিতঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ৫:৫৩ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: জনমানুষের কল্যাণে যতবেশী যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা আছে তা নির্মাণাধীন ও পরিকল্পনাধীন ফ্লাইওভারগুলোতে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির এক নম্বর সাব কমিটির আহ্বায়ক মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে সাব কমিটির তৃতীয় বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়ন। চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের নাভি হিসেবে বিবেচনা করি আমরা। চট্টগ্রাম বন্দর না থাকলে, দেশের অর্থনীতি তরান্বিত করার জন্য আমরা বড় স্বপ্ন দেখতে পারতাম না। আমরা চাই ফ্লাইওভারগুলো আরও যৌক্তিক এবং দ্রুততার সঙ্গে জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। আমাদের থেমে থাকার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাবো।

সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, নির্মানাধীন বা নির্মাণের পরিকল্পনাধীন ফ্লাইওভারগুলোর পরিকল্পনাতে ক্রটি-বিচ্যুতি আছে কিনা অথবা পরিকল্পনাগুলো আরো যৌক্তিকাবে নেওয়া যেত কিনা বা যাবে কিনা সেটা দেখাই কমিটির কাজ। যাতে করে ফ্লাইওভারগুলো আরো অধিকতর জনবান্ধব সুবিধা দিতে পারে। কিন্তু নির্মাণের গুণগত মান বা অর্থায়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো দেখা এই কমিটির দায়িত্বের অংশ নয়।

তিনি বলেন, ফ্লাইওভারে নিয়ে আমরা সিডিএর সাথে আলোচনা করেছি। সিডিএর সংশ্লিষ্টরা ডকুমেন্টগুলো আমাদেরকে প্রদর্শন করেছেন। এতে আমরা মনে করছি, চট্টগ্রামে যে ফ্লাইওভার নির্মাণ হয়েছে এবং নির্মাণাধীন আছে সেগুলো যদি পরিকল্পনা মোতাবেক সমাপ্ত হয় তাহলে সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। চট্টগ্রামের অনেক বেশী উন্নয়ন হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এটা বড় ধরনের মাইলফলক হিসেবে অবদান রাখবে।

ফ্লাইওভার করার ক্ষেত্রে সড়কের আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য্য হানি হবে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, সৌন্দর্য্য হানি হবে না। সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধির জন্য ফ্লাইওভার করা হবে। এই অবকাটামোটা মানুষকে সার্বিকভাবে সুখ শান্তি দেওয়ার জন্য করা হচ্ছে।

এমআরটি (ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা মেট্টো রেলপথ) গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ফ্লাইওভার শেষ পেরেক হচ্ছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, এমআরটির সাথে ফ্লাইওভারের প্রতিপক্ষ হওয়ার সুযোগ নেই। এমআরটি করার জন্য যখন পরিকল্পনা করা হবে, তখন এসব বিষয় মাথায় রেখেই করা হবে। এখনো এমআরটি চট্টগ্রাম শহরে করার পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আমরা হংকং, সাউথ কোরিয়ার সাথে তুলনা করতে পারবো না। সিঙ্গাপুরের সাথেও আমরা তুলনা করতে পারবো না। নি¤œ মানের একটি অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে আমরা আজকে মোটামুটি সম্মানজনক জায়গায় এসে পৌছেছি। আমরা উন্নত স্বপ্ন দেখি, সে স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করি। ফ্লাইওভার একসময় আমাদের কল্পনায়ও ছিল না। আজকে চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার দৃশ্যমান হয়েছে।

ফ্লাইওভার করার জন্য সিডিএ সক্ষম প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত যে ফ্লাইওভার সেটি শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ আছে। প্রতিটি ফ্লাইওভারে জনমানুষের কল্যাণে যত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আছ সবই যাতে পরিকল্পনায় থাকে সেদিকে নজর রাখবো আমরা। মানুষ যাতে ফ্লাইওভারের মাধ্যমে সেবা বঞ্চিত না হয়। সিডিএতে প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতের সক্ষম ব্যক্তিরা আছেন। আমি মনে করি না, তারা শুধু টাকার জন্যে, মাসিক বেতনের জন্য চাকরি করছেন। প্রিয় মাটির প্রতি দায়বদ্ধ থেকে আমরা কাজ করার উৎসাহ পাই, উদ্দীপনা পাই। শত বছরের কল্যাণকর একটি উন্নত বাংলাদেশের জন্য যদি আমরা অবদান রাখতে পারি, এটাই আমাদের সার্থকতা।

ফ্লাইওভার নির্মাণের ক্ষেত্রে ক্রুটি পাওয়া গেছে কিনা প্রশ্নে তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের সংশ্লিষ্ট জ্ঞানী মানুষজন আলোচনা করেই ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজে যুক্ত হয়েছেন। সে আলোচনা হওয়ার পরও কোন ক্রুটি বিচ্ছুতি আছে কিনা সেটা সেটা আমরা খতিয়ে দেখবো। এখন পর্যন্ত আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বিষয়টা খতিয়ে দেখছি। আজকের অনুষ্টানে চুয়েটের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও পুলিশের মতামতও নিয়েছি আমরা।

ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে ফ্লাইওভার ব্যয় দ্বিগুণ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, এরকম বিতর্ক বিভিন্ন সময় আছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা এবং অন্য কোন দেশের ভৌগোলিক অবস্থা এক করে দেখা না-ও যেতে পারে। যেমন আমাদের এখানে ভ’মির অনেক উন্নয়ন করে রাস্তা করতে হয়। সৌদি আরবে রাস্তা নির্মাণ করতে গেলে বালি সরিয়ে কংক্রিটের ডালায় করে দিলেই হয়ে যায়। এতে ব্যয় অনেক কম হয়। ফ্লাইওভার নির্মাণের ব্যয় বেশী হচ্ছে বলে আমাদের মনে হয়নি। যদি এ ধরনের কোন তথ্য-প্রমাণ আমরা পাই, তবে রিপোর্ট দেব।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- এক নম্বর সাব কমিটির সদস্য সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, চুয়েটের সাবেক উপাচার্য ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

এদিকে সভা শেষে কমিটির সদস্যরা মুরাদপুরে নির্মাণাধীন আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ এবং বহদ্দারহাটের এমএ মান্নান ফ্লাইওভার ও কদমতলি ফ্লাইওভার পরিদর্শন করেন। এসময় ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।