চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ডে স্বামীকে হত্যার পর দুই সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী থানায় হাজির হয়েছেন। বুধবার ভোর পাঁচটার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারি ইউনিয়নের মাদামবিবিরহাট-সংলগ্ন খাদেমপাড়া গ্রামের নেভিরোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিজেকে হত্যাকারী বলে দাবি করা ওই স্ত্রীর স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর আলম (৪০)। তাঁর দুই ছেলেসন্তানের একজনের বয়স ১৩ ও আরেকজনের বয়স তিন বছর। জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী খালাতো ভাইবোন ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। জাহাঙ্গীর একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক ছিলেন।
স্ত্রীর অভিযোগ, স্বামী জাহাঙ্গীর প্রতিদিন নেশা করে বাড়ি ফিরে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মারধর করতেন। তিনি ভেবেছিলেন, ছেলেরা বড় হচ্ছে। তাই নির্যাতনের মাত্রা কিছুটা কমবে। কিন্তু উল্টো তা বেড়েছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘরে ফিরে সন্তানদের সামনে তাঁকে বেদম মারধর করেন জাহাঙ্গীর। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়লে গতকাল ভোরের দিকে জাহাঙ্গীরকে মসলা পেষার শিল দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীর মারা যান।
এরপর স্বামীর লাশ তোশক দিয়ে মুড়িয়ে খাটের নিচে রেখে দেন। দুপুরের দিকে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানায় যান। সেখানে তাঁদের সীতাকুণ্ড থানায় যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের ওই থানায় হেঁটে গিয়ে রাত নয়টার দিকে পুলিশকে বিষয়টি জানান স্ত্রী।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। দুই ছেলেসহ স্ত্রীকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।