সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

চবির পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে গেল সহকারী প্রক্টররা!

| প্রকাশিতঃ ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ৮:৩৫ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জীববিজ্ঞান অনুষদের পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রক্টর হানিফ মিয়াসহ প্রক্টরিয়াল বডির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয়, পুকুর থেকে বড় আকারের একটি কাতলা মাছ বুকে জড়িয়ে নিজের ফেসবুকেও ছবি দিয়েছেন সহকারী প্রক্টর হানিফ মিয়া। সমালোচনা শুরু হলে এই ছবি সরিয়েও নেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর থেকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের মাছ ধরে খাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন বলেই উল্লেখ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝড়।

জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল চবি জীব বিজ্ঞান অনুষদের পুকুর থেকে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান কয়েকজন সহকারী প্রক্টর। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পুকুরে এভাবে মাছ ধরার নিয়ম নেই। নিয়ম অনুযায়ী পুকুরগুলো ব্যক্তির নামে লিজ থাকার কথা। এছাড়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় পুকুর থেকে মাছ ধরতে চাইলে এই প্রক্টরিয়াল বডিই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাজ শৃঙখলা রক্ষা করা। অতীতে বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে পুকুরগুলো থেকে মাছ ধরায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে প্রক্টরিয়া বডির সদস্যরা। এখন বন্ধ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা না থাকায় প্রক্টরিয়াল বডির কিছু কিছু সদস্য অন্যের লিজ নেওয়া পুকুরের মাছ ধরছে। রক্ষক যদি ভক্ষক হয়ে উঠে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিণতি হবে ভয়াবহ।

এদিকে সহকারী প্রক্টর হানিফ মিয়ার ফেসবুকে দেওয়া ছবিতে দেখা গেছে, বড় আকারের কাতলা মাছ তিনি বুকে জড়িয়ে ধরে আছেন। তার মুখে নেই মাস্ক, হাতে নেই গ্লাভস। আবার পেছনে কিছু মানুষকে দেখা গেছে যাদেরও নেই কোন সুরক্ষা সামগ্রী।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সুযোগে তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সহকারী প্রক্টর মাছ ধরতে গিয়েছিল। যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চলছে সমালোচনা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সময় হলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডিকে এ পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকতে বলেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থানকারী শিক্ষকরা কেউই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সরকারের নির্দেশনা মেনে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে গবেষকরা ফিরেছেন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর। তাদের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে করোনা ঝুঁকিতে।

কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে সহকারী প্রক্টরদের কেউ কেউ লোকজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরে মাছ ধরতে যাওয়াকে তাদের ‘শিশু সুলভ’ আচরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, করোনাভাইরাস ইস্যুতে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. শিরীণ আখতারের তৎপরতা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারকে করা সহযোগীতাসহ নানা উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু সহকারী প্রক্টররা যদি পুকুরে নেমে মাছ ধরার মত কর্মকাণ্ড ঘটান তাহলে তা হবে প্রক্টরিয়াল বডির বালখিল্যতার বহিঃপ্রকাশ। যাদের সবচেয়ে বেশি সচেতন থাকার কথা তারাই গেলেন অন্যায়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরের মাছ ধরতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর হানিফ মিয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে ঝকঝকে দিনের আলোতে এই পুকুর থেকে মাছ ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, মাছ ধরার সময় স্বয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অন্যান্য সহকারী প্রক্টররাও উপস্থিত ছিলেন। অনুমতি নিয়েই আমরা এটি করেছি।