
লোহাগড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীের মুক্তির লক্ষ্যে বিতর্কিত রকি বড়ুয়ার সাথে সাঈদীপুত্র মাসউদ সাঈদীর বৈঠকের মাস্টারমাইন্ড খ্যাত মাওলানা আবদুল ছবুরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আগামিকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত জামিন শুনানি মুলতবি রেখে আদালত মাওলানা ছবুরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সবুর মৌলভী লোহাগাড়ার কলাউজান ইউনিয়নের পশ্চিম কলাউজানের মৃত আবুল কাশেমের পুত্র।
গত ১৭ মে উপজেলার উত্তর চরম্বার নতুন পাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র আবুল কাসেম চৌধুরী বাদী হয়ে রকি বড়ুয়া ও তার বিশ্বস্ত সহযোগী আব্দুস সবুর মৌলভীসহ আরো কয়েকজনকে আসামী করে এ চাঁদাবাজির মামলাটি লোহাগাড়া থানায় দায়ের করেছিলেন। লোহাগাড়া থানার মামলা নং-২৫ (৫) ২০২০।
লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ জানান, গত ২৫ মে বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর ঘটনায় আটক মো: জাহাঙ্গীর আলমের দেয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর ঘটনায় সবুর মৌলভীর সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে। এছাড়াও পুলিশের তদন্তে রকি বড়ুয়ার সমস্ত অপরাধের সাথে সবুর মৌলভীর জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।
জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনায় জয়সেন বড়ুয়া বাদি হয়ে মৌলভী হেলাল উদ্দিন ও জামাল উদ্দিনসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। গত ১৫ মে শুক্রবার রাতে আমরা হামলার সঙ্গে জড়িত কামাল উদ্দীনকে গ্রেফতার করে পরেরদিন ১৬ মে শনিবার তাকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুড়িশিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারামতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন কামাল উদ্দীন। বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত কামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম ও মোস্তাক আহমেদ মেম্বারসহ তিন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি এবং দু’জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়।
তদন্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম আরো বলেন, আটক কামাল উদ্দীন ও জাহাঙ্গীর আলম বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর ঘটনায় জড়িতদের নাম ও পরিকল্পনার কথা বিস্তারিত জানিয়েছে। তারা দু’জনই রকি বড়ুয়ার বাড়ীতে পরিকল্পনা বৈঠক পূর্বক রকি বড়ুয়ার নেতৃত্বেই বৌদ্ধ বিহারে ভাংচুর চালানো হয় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িত অপরাপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। অস্ত্র-মাদকসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা রকি বড়ুয়াসহ তার সহযোগীদের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে ভোরে লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা বিবিরবিলা এলাকায় বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলার ঘটনায় জয়সেন বড়ুয়া বাদি হয়ে লোহাগাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল রকি বড়ুয়া তার বাহিনী দিয়ে এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে।