
মোয়াজ্জেম হোসেন, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট খয়েরের দিঘীতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত সেপ্টেম্বর থেকে খয়েরের দিঘীতে বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর বড়শি প্রতিযোগিতা দেয়া হয়। উক্ত দিঘীতে তেমন কোন মাছ নেই। প্রতিযোগিতার আগে বিভিন্ন সাইজের ২০-২৫টি কাতল মাছ ছেড়ে দেয়া হয়।
এরপর যিনি সবচেয়ে বড় কাতল মাছ ধরতে পারবেন তাকে ২ লাখ টাকা ‘পুরস্কার’ দেয়া হয়। ২য় ‘পুরস্কার’ এক লক্ষ টাকা। এভাবে ১০ম ‘পুরস্কার’ পর্যন্ত দেয়া হয় সর্বমোট ৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
সেদিন কথিত প্রতিযোগিতার আসন সংখ্যা ছিল ৭০টি ও প্রতিটি টিকেটের দাম ছিল ১৫ হাজার টাকা। সে হিসেবে টিকিট বিক্রি বাবদ আসে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। যার মধ্যে ৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ‘পুরস্কার’ দিলে অবশিষ্ট ৫ লাখ ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সংঘবদ্ধ চক্র।
এভাবেই বড়শি প্রতিযোগিতার নাম দিয়ে চলছে জুয়ার আসর। একই কায়দায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন নিয়ে একুশে পত্রিকায় ‘বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে জমজমাট জুয়া’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর প্রশাসনের তৎপরতায় চট্টগ্রামে বেশ কিছুদিন কথিত বড়শি প্রতিযোগিতা বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এবার রাঙ্গুনিয়ার খয়েরের দিঘীতে এ অভিনব কায়দায় আবার জুয়ার আসর বসানো শুরু হয়েছে। গত ১৮ ও ২৫ সেপ্টেম্বরও খয়েরের দিঘীতে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়; সে সময় প্রতিটি টিকিটের দাম ছিল ২০ হাজার টাকা।
এদিকে আগামী ৩, ৮ ও ৯ নভেম্বর রাঙ্গুনিয়ার খয়েরের দিঘীতে পুনরায় কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এবার আসন থাকবে ৬০টি ও প্রতিটি টিকেট মূল্য ১৮ হাজার টাকা। তবে ‘পুরস্কার’ আগের মতই থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে সৌখিন মৎস্য শিকারীরা বিভিন্ন স্থানে বড়শি প্রতিযোগিতায় অংশ নিত, টিকিটের দামও কম ছিল, মাছও থাকতো পুকুরে, দিঘীতে। এখন বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে স্রেফ ক্যাসিনো স্টাইলে জুয়া খেলা চলছে, পুকুরে মাছ বলতে নেই। যার কারণে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় ছিপ ফেলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে একটি মাছও পান না বেশিরভাগ মানুষ।
এদিকে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতা পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ইকবাল একুশে পত্রিকাকে বলেন, খয়েরের দিঘীর অংশীদার রয়েছে দুইশ’জনের অধিক। খেলা পরিচালনা করে অল্প কিছু টাকা অবশিষ্ট থাকে। দিঘীর সংস্কার কাজে টাকাগুলো ব্যবহার করা হয়।
তিনি বলেন, খেলা পরিচালনা কমিটির সাথে আলোচনা করে আগামী খেলাগুলো বন্ধ রাখবো এবং পুরস্কারের ভিত্তিতে আর বড়শি প্রতিযোগিতা পরিচালনা করবো না।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর বসানোর বিষয়ে জানতাম না। এখন যেহেতু জেনেছি, এ বিষয়ে পোমরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করবো এবং ব্যবস্থা নেবো।