
খেলাধুলা ডেস্ক : দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সাত উইকেট হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এটি ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টানা তৃতীয় সিরিজ জয় তামিম-সাকিবদের। এর আগে, ২০০৯ সালে তাদের মাটিতে ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। ২০১২-১৩ সালে ঘরের মাঠেও গেইল-স্যামুয়েলসদের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল লাল-সবুজের দলটি।
রাজধানী ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৪৯ রান। টাইগাররা ম্যাচ জিতে ১৬ ওভার চার বল হাতে রেখে। সর্বোচ্চ ৫০ রান আসে অধিনায়কের ব্যাট থেকে। সাকিব অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন তামিম এবং লিটন দাস। ওয়ানডে দলপতি শুরুতে ধীরগতিতে খেললেও লিটন ব্যস্ত ছিলেন দ্রুত রান তোলায়। তবে ষষ্ঠ ওভারের ঠিক আগে ২২ রানে আউট হন লিটন। গেল ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের একটু হলেও দুশ্চিন্তায় ফেলেছিলেন আকিল হোসেন। সেই আকিল এই ম্যাচেও এনে দিয়েছেন সফরকারীদের প্রথম ব্রেক থ্রু। ৪টি বাউন্ডারি হাঁকানো লিটনকে লেগ বিফরের ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন তিনি। সঙ্গী হারালেও নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন তামিম। তবে দলীয় ৭৭ রানে ১৭ রান করা নাজমুল উইকেট ছুঁড়ে দেন।
চার নম্বরে নামা সাকিবকে নিয়ে দলকে ১০০’র ওপর নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন তামিম। তবে মাইলফলকে পৌঁছেই উইকেট ছুঁড়ে দেন ওয়ানডে দলপতি। ৫০ রানে তিনি ফিরলেও সাকিব এবং মুশফিকুর রহিম মিলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান।
সাকিব অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে। মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ৯ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে একটি করে উইকেট নেন রেইমন্ড রেইফার, আকিল হোসেন এবং জেসন মোহাম্মদ। সিরিজ জিতলেও সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যে ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করা ক্যারিবীয়ান ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়া দেখে মনে হচ্ছিল ১০০ রানও ছুঁতে পারবে না দলটি। কিন্তু রভমান পাওয়েল এবং টেল এন্ডার ব্যাটসম্যানদের ছোট ছোট সংগ্রহে দেড়শর কাছাকাছি পুঁজি পায় সফরকারীরা।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করে ৪৩.৪ ওভারে জেসন মোহাম্মদের দল অল আউট হয়েছে ১৪৮ রানে। দলটির সর্বোচ্চ স্কোরার পাওয়েল (৪১)। ৯.৪ ওভারে ২৫ রানে ৪ উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। মুস্তাফিজ এবং সাকিব নেন ২টি উইকেট।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অল্প রানে আটকে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান। ৯.৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল মিরাজ। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। আর সাকিব ১০ ওভারে ৩০ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। তাদের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমানের (২/১৫) চমৎকার বোলিংয়ে ক্যারিবিয়ানরা ৪৩.৪ ওভারে অলআউট হয় ১৪৮ রানে।