সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

হাটহাজারীতে করোনা-আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই

| প্রকাশিতঃ ১১ জুলাই ২০২১ | ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : হাটহাজারী উপজেলায় মহামারী করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের ১ম সপ্তাহ থেকে ২য় সপ্তাহের প্রথম দিনে এই উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪ শ ৭৮ জন। জনসচেতনতার অভাবই আক্রান্তের হার বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারিভাবে কঠোর লকডাউন ঘোষণার পর থেকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন কার্যকর করার আপ্রাণ চেষ্টা করা হলেও এলাকার লোকজন এ ব্যাপারে উদাসীন বলে মন্তব্য করেন উপজেলা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়  এই মহামারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেন। এরপরও পরিস্থিতি কিছুটা হলেও স্বাভাবিক না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার থেকে লকডাউনের মেয়াদ আরো এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত করেছেন। এরপরও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমছে না।
হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসাইন হাটহাজারীতে বিগত আট দিনে নমুনা পরীক্ষা করে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৭৮ জন বলে জানান। তাছাড়া করোনা আক্রান্ত    রোগীর চিকিৎসা সেবার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০টি বেড নির্ধারণ করে রাখা হলে সেখানে নির্ধারিত বেডের অতিরিক্ত রোগী স্বজনদের অনুরোধে ভর্তি রাখা হয়েছে।
লকডাউন কার্যকর করতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের সাথে মাঠে দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রহুল আমিন ও সহকারী কমিশন (ভূমি) শরীফ উল্লাহ জানান, সরকার ঘোষিত লকডাউন ঘোষণা কর্যকর করতে সারা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করার সময় রাস্তাঘাটে বের না হওয়ার জন্য  লোকজনকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হলেও কোনোভাবেই তাদের ঘরে রাখা যাচ্ছে না। কোনো না কোনো অজুহাত নিয়ে লোকজন রাস্তায় বের হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষগুলো পেটের দায়ে বের হলেও প্রয়োজন ছাড়াও অনেকে ঘর থেকে অযথা বের হয়ে ঘোরাঘুরি করেছে। তবে রাস্তায় যাদের পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে যারা উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারছে, তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাদবাকীদের সরকার ঘোষিত লকডাউন অমান্য করার দায়ে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে বলে উপজেলার শীর্ষ এই কর্মকর্তাদ্বয় গণমাধ্যমকে জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সচেতনতাই এই আক্রমণ থেকে বাঁচাতে পারে। কিন্তু দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবে রয়েছে। লকডাউন আর শার্টডাউন যাই বলা হউক না কেন, ঘরে খাওয়ার না থাকলে মানুষতো খাদ্যের সন্ধানে বের হবেই। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে এক মাসের খাদ্য প্রত্যেক পরিবার পৌঁছে দিতে পাড়লে মানুষ ঘরে অবস্থান করবে। তাই তিনি প্রস্তাব করেন সারা দেশের প্রত্যেক পরিবারে পর্যাপ্ত খাবার পৌঁছে দেওয়ার চিন্তা করতে হবে সরকারকে।