ঢাকা : বৈশ্বিক সংঘর্ষের মুখোমুখি বিশ্বজাতি, বিশ্বসমাজ। জাতিগত দ্বন্দ্ব-বিভেদ চলছে সবখানে। এই অবস্থায় সব দ্বন্দ্ব-বিভেদ দূর করে বিশ্বব্যাপী শান্তি অন্বেষণে কাজ করছে আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থা এইচডব্লিউপিএল। সংস্থাটি এবার শান্তি প্রকল্প হাতে নিয়েছে আফগানিস্তানে। দেশটিতে সমাজতন্ত্র, ধর্ম ও জাতিগত বৈচিত্র্যময় পরিচয়ের ভিত্তিতে শান্তি শিক্ষার মাধ্যমে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে এইচডব্লিউপিএল। এইচডব্লিউপিএল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়।
গত ৩০ এপ্রিল কাবুলের মাশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগানিস্তানের ট্রান্সফারেন্স নির্বাচন ফাউন্ডেশন ও এইচডব্লিউপিএল যৌথভাবে ‘শান্তি কেডস প্রকল্প’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইন বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা, ৮০ জন নারী-পুরুষসহ ২০০ এর বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
জাতিসংঘের জনসংযোগ বিভাগ (ইউএনডিপিআই)-এর অধীনে আন্তর্জাতিক সংস্থা এইচডব্লিউপিএল আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আফগানিস্তান শান্তিচুক্তি সম্পর্কিত প্রধান উপদেষ্টা ড. হাবিবা স্যারবি (উপ রাষ্ট্রীয় উচ্চ শান্তি পরিষদ), ফজলে আহমাদ মানুয়ী (ধর্মীয় প-িত) এবং ইসমাঈল কাসিমিয়ার (আফগানিস্তান উচ্চ শান্তি পরিষদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিনিধি)।
অনুষ্ঠানে আফগান জনগণকে শান্তি স্থাপনের সহযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য বার্তা প্রদান করা হয়।
আফগানিস্তানের ট্রান্সপারেন্ট নির্বাচন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট নঈম আইয়ুবদাদা বলেন, আফগানিস্তানে পশতুন, তাজিক, হাজারা ও উজবেকসহ অনেক জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের আছে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও জাতিগত ইতিহাস। জাতিগত ভেদাভেদ থাকলেও তারা সবাই আফগানিস্তানের নাগরিক ও এক পরিবারের সদস্য। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তারা সবাই মনস্তাত্বিকভাবে এক ও অভিন্ন হৃদয়ের। সব ভেদাভেদ ভুলে শান্তি স্থাপনের জন্য আমাদের একে অপরের কাছে অবাধে যেতে হবে।
এইচডব্লিউপিএল-এর সহ-ব্যবস্থাপক বিজয়ী বায়ু বলেন, ‘আমরা বার্তা দিতে চাই যে, এই ধরনের সহযোগিতামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে শান্তি স্থাপনে জাতিগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের অনুষ্ঠান থেকে শান্তি বজায় রাখার জন্য একটি অংশীদারিত্ব এবং সম্মিলন খুঁজে পাওয়া সহজ। আমরা পরবর্তী ইভেন্টের দিকে তাকিয়ে আছি, অংশীদাররা হোস্টিংয়ের পরিকল্পনায় থেকে স্বেচ্ছায় নেতৃত্ব দেবে।’
তিনি বলেন, আইন, ধর্ম, শিক্ষা, নারী, যুবক ও গণমাধ্যমের সংগঠন ও গ্লোবাল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে, এইচডব্লিউপিএল নাগরিক সমাজের গোষ্ঠীগুলির সাথে শান্তি প্রকল্প পরিচালনা করে আসছে। আন্তর্জাতিক আইনি বিশেষজ্ঞরা এইচডব্লিপিএল-এর মাধ্যমে শান্তি ঘোষণার মাধ্যমে সহিংসতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতিসংঘের প্রস্তাবিত শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়নের ঘোষণাটির অপরিহার্য অংশসহ ঐক্য এবং মানবাধিকারের নীতির উপর ভিত্তি করে জাতিগত বৈচিত্র্য একটি বিশ্বব্যাপী প্রকল্প হিসাবে, ‘আইনসভা শান্তি ক্যাম্পেইন’, যা ২০১৫ সালের মধ্যে ১২০ টিরও বেশি দেশে আইনি ভিত্তি হিসাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করছে এবং এই লক্ষ্যে ৭০০ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে।