মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক পদে কাজল নাকি দুলাল?

| প্রকাশিতঃ ১০ মার্চ ২০২২ | ৫:৫১ অপরাহ্ন


গাজী সাদেক, সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবেদক : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৫ ও ১৬ মার্চ। সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এবারের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল কি তৃতীয়বারের মত জয়ী হবেন? নাকি এডভোকেট আব্দুল নূর দুলালের প্রথমবারে না পাওয়া সেই বিজয় দ্বিতীয়বারে ধরা দেবে?

আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বারবার জয়ী হওয়ার নজির বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাতবার বিজয়ী হয়েছেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল পরপর টানা দুইবার জয় পেয়েছেন।

এছাড়া টানা তৃতীয়বারের মত বিজয়ী হয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দীন।

যেখানে একবার জেতা অনেক কঠিন সেখানে সাতবার সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হওয়ার রহস্য কী? জানতে চাইলে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি আমাকে ভোট দেন কেন? পরে আমি উপলব্ধি করলাম, বিজ্ঞ আইনজীবীরা খুব বুদ্ধিমান। তাঁরা কাউকে সহজে বিশ্বাস করেন না। তবে আমার সরলতা ও সততার জন্য তাঁরা মনে করেন আমি কারও জন্য ক্ষতিকর নই। তাই আমাকে ভোট দেন।’

একই প্রশ্নের উত্তরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দীন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘দল মনে করেছে আমি জিতে আসবো, তাই আমাকে বারবার মনোনয়ন দিয়েছে। এছাড়াও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, বিজ্ঞ আইনজীবীগণের স্বার্থে কাজ করে যাওয়া। তাঁরা আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসাস্থল হিসেবে আমাকে বারবার নির্বাচিত করেছেন।’

২০১৯-২০ সালে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করে হেরে গেলেও মাঠ ছেড়ে যাননি এডভোকেট আব্দুল নূর দুলাল। দলীয় রাজনীতিতে সরব উপস্থিতির জন্য সাদা প্যানেল তাঁকে দ্বিতীয়বারের মত সমর্থন দিয়েছে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে। তিনি প্রার্থীতা চূড়ান্ত হওয়ার আগে থেকেই বিভিন্ন জেলার আইনজীবী সমিতিসহ সুপ্রিম কোর্ট বারের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

দ্বিতীয়বার সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে দলীয় সমর্থন লাভের কারণ জানতে চাইলে আব্দুল নূর দুলাল একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক পদে আগে একবার খারাপ করেও আমি দলের কার্যক্রমে ছিলাম। এবং সারাদেশের বিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। আমি আইনজীবীদের সেবা দিতে চাই। দল মনে করেছে আমাকে সেবা করার সুযোগ দেওয়া উচিত তাই সমর্থন দিয়েছে। আমি আশাবাদী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আইনজীবীদের সেবা করার সুযোগ পাব।’

অপরদিকে টানা পরপর দুইবার সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সারাদেশের জেলা বারের বিভিন্ন প্রোগ্রামে নিয়মিত অংশগ্রহণসহ আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তিনি আগে দুইবার মনোনয়ন পেয়ে দুইবারই সফল হয়েছেন।

ব্যারিস্টার কাজল তৃতীয়বারের মতো নীল প্যানেলের সমর্থন লাভ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ভোটাররা আমাকে যে প্রত্যাশা নিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন, সেই প্রত্যাশা আমি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। বারের কল্যাণে, বিজ্ঞ আইনজীবীদের কল্যাণে এবং করোনার মধ্যে জীবনবাজি রেখে আমি কাজ করেছি। আইনজীবীদের বিপদে-আপদে প্রত্যেকটা কোর্টে আমি তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি।’

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আরও বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে বিজ্ঞ আইনজীবীদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করেছি। বিশেষ করে তরুণ আইনজীবীদের পেশার শুরুতে যে চ্যালেঞ্জ থাকে, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমি তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি। এই সমস্ত কারণে আমাকে প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয়বার আরও বেশি ভোট দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি এবারও বিজ্ঞ আইনজীবীগণ আমাকে নির্বাচিত করবেন।’