
চট্টগ্রাম : ২৬ বছর আগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করে লাশ গুমের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় রওশন আলী নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই রায়ে আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
রোববার (২৯ মে) চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস ওয়াহিদের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অতিরিক্ত জেলা পিপি লোকমান হোসেন চৌধুরী।
দণ্ডিত রওশন ১৯৯৭ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এরপর ২০১০ সালে রওশন জামিনে গিয়ে পালিয়ে যান। রায় ঘোষণার সময় রওশন পলাতক ছিলেন। তিনি ফটিকছড়ির বাগানবাজার এলাকার একটি চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন।
এর আগে ১৯৯৬ সালের জুন মাসে স্ত্রী মমতাজ বেগম ও এক বছরেরও কম বয়সী মেয়ে আকলিমাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর চা বাগানের ভেতরের কূপে ফেলে দেন রওশন। এরপর পালিয়ে যান রওশন।
এরপর হঠাৎ ১৯৯৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রওশন ওই চা বাগানে ফিরে আসেন। তখন অন্য শ্রমিকরা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। প্রথমে পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে রওশন স্ত্রী ও মেয়েকে খুনের কথা স্বীকার করে ও লাশ কূপে ফেলে দেওয়ার কথা জানায়। পরে পুলিশ ওই কূপ থেকে হাড়গোড়, মাথার খুলি ও মমতাজের স্বর্ণের নাকফুল উদ্ধার করে। পরে ১৯৯৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মমতাজের বাবা আব্দুর রহিম বাদী হয়ে রওশনের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ২০ জুলাই স্বামী রওশন আলীকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এ ঘটনায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে আজ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।