মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

হিরোইজম দেখাতে শিক্ষক উৎপলকে পিটিয়ে হত্যা : র‍্যাব

| প্রকাশিতঃ ৩০ জুন ২০২২ | ১:৪৮ অপরাহ্ন


ঢাকা : হিরোইজম দেখাতে গিয়ে সাভারের আশুলিয়ায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে ছাত্র জিতু স্টাম্প দিয়ে মারধর করে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে এলিট ফোর্সটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এই তথ্য জানান।

শিক্ষক উৎপল হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিতুকে গতকাল বিকালে গাজীপুরের শ্রীপুরের নগরহাওলা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে আজ র‌্যাবের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন বলেন, বুধবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় র‌্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এবং র‌্যাব-৪ এর যৌথ অভিযানে গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে জিতুকে গ্রেফতার করে। জিতু ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। শিক্ষাজীবনে বিরতি দিয়ে প্রথমে স্কুল, পরে মাদ্রাসা ও সর্বশেষ পুনরায় স্কুলে ভর্তি হয়। স্কুলে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র হিসেবে পরিচিত সে। বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, মারামারিসহ স্কুলের পরিবেশ নষ্টের জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ও স্কুল চলাকালীন ছাত্রীদের ইভটিজিং ও বিরক্ত করত। স্কুল প্রাঙ্গণে সবার সামনে ধুমপান, স্কুল ইউনিফর্ম ব্যতিত স্কুলে আসা-যাওয়া, মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করত।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার আরও বলেন, গ্রেফতার জিতুর নেতৃত্বে এলাকায় একটি কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠে। গ্যাং সদস্যদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে যত্রতত্র আধিপত্য বিস্তার করত। পরিবারের কাছে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে জিতু তার গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হতো ও বিভিন্ন সময় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে হামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে শোডাউন করতো।

খন্দকার আল মঈন আরও জানান, ঘটনার কয়েকদিন আগে ওই স্কুলের এক ছাত্রীর সঙ্গে জিতুর অযাচিতভাবে ঘোরাফেরা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে নিষেধ করেন শিক্ষক উৎপল। এতে ওই শিক্ষকের প্রতি ক্ষুব্ধ হয় জিতু। ওই ছাত্রীর কাছে নিজের হিরোইজম প্রদর্শন করার জন্য তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫ জুন একটি ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প স্কুলে নিয়ে আসে এবং তা শ্রেণিকক্ষের পেছনে লুকিয়ে রাখে। নিহত শিক্ষককে আঘাত করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। পরবর্তীতে কলেজ মাঠে ছাত্রীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালীন শিক্ষক উৎপল কুমারকে মাঠের এক কোণে শিক্ষককে একাকি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিতু স্ট্যাম্প দিয়ে অতর্কিতভাবে বেধড়ক আঘাত করতে থাকে। জিতু শিক্ষককে প্রথমে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করে এবং পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতরভাবে জখম করে।

গত শনিবার সাভারের হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমারকে স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে একই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু। গত সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষক মারা যান।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই শিক্ষকের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার আশুলিয়া থানায় ওই ছাত্রের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন স্থানে আসামি ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ভোরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ওই ছাত্রের বাবা উজ্জ্বলকে গ্রেফতার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর বিকালে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন মূলহোতা আশরাফুল ইসলাম জিতু।