
খেলাধুলা ডেস্ক : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের মধ্যকার তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পণ্ড হয়। দ্বিতীয় ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ৩৫ রানে হারে সফরকারী বাংলাদেশ। সিরিজের সমীকরণ এখন ১-০। এ অবস্থায় তৃতীয় টি-টোয়েন্টি তথা শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ বাঁচাতে মরিয়া টাইগাররা। সিরিজ সমতায় শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আজ স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৫টি ম্যাচ খেলেছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ জিতেছে ৫ ম্যাচে, হেরেছে আটটিতে এবং পরিত্যক্ত দুটি।
দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, ম্যাচ জিততে দলের সবারই অবদান রাখা জরুরি। আমরা সব সময়ই ম্যাচ জয়ের জন্য মনোনিবেশ করি। তবে টি-টোয়েন্টিতে জিততে হলে আমাদের মতো একটি দলকে, ইউনিট হিসেবেই খেলা উচিত। সবার নিজ নিজ জায়গা থেকে অবদান রাখতে হবে। যা বুঝলাম, দল হিসেবে খেলাই আমাদের বড় শক্তি। আমরা যদি তা না করতে পারি, তাহলে আমাদের পক্ষে ম্যাচ জয় সম্ভব নয়। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের খরুচে বোলারদের কারণে রানের পাহাড় গড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৩ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দেয় ক্যারিবিয়ানরা।
তাই স্বাভাবিকভাবে অভিযোগের তীর দলের বোলারদের দিকে। এদিকে বেশ কিছুদিন ধরে বোলিংয়ে বিবর্ণ দলের অন্যতম বোলিং ভরসা মোস্তাফিজুর রহমান। সেরা অস্ত্রই যখন ভোঁতা, বোলিং আক্রমণের অবস্থাও নাজেহাল হওয়াটা স্বাভাবিক। তারপরও সর্বোচ্চটা দিতে আশাবাদী মোস্তাফিজ। জানিয়েছেন, তিনি এখনো শিখে চলেছেন এবং চেষ্টার কমতি রাখছেন না। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আপনারা না পেতে পারেন (আগের মোস্তাফিজকে), আমি তো মনে করি অপারেশনের পর (২০১৬ সালের আগস্টে) আমার এক-দেড় বছর ভালো পারফরম্যান্স ছিল না। শেখার তো শেষ নেই, উন্নতি প্রতিদিন করা যায়। আমি চেষ্টা করছি আরো উন্নতি করার জন্য যে বিশ্বের ভালো ভালো বোলারের মধ্যে কীভাবে থাকা যায়। ফিটনেস বলেন, কোচদের পরামর্শ নেয়া বলেন, আমি শিখছি এখনো।
ক্রিকেটের ক্ষুদ্র সংস্করণে উইকেট অনেক সময় বোলিংয়ের জন্য কঠিন থাকে। কিন্তু মোস্তাফিজের কাছে প্রত্যাশা বেশি। বৈচিত্র্য আর অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রতিকূলতা জয় করবেন তিনি। নেতৃত্ব দিবেন পেস আক্রমণকে। কিন্তু দেশের বাইরে শুধু সা¤প্রতিককালেই নয়, মোস্তাফিজের বোলিংয়ের সামগ্রিক চিত্রই এখন অসন্তোষজনক। এমন অবস্থায় উইকেটকে দায়ী করছেন তিনি, এশিয়ার উইকেট এক রকম, এশিয়ার বাইরের উইকেট আরেক রকম। এশিয়ার বাইরের উইকেট খুব ভালো, ‘ট্রু’ উইকেট থাকে। এটার কারণে হতে পারে।
একসঙ্গে তিন পেসার খেলানোও দলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিবীয়রা ২০ ওভারে করেছে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান। যেখানে তিন পেসার তাসকিন (৪৬), মোস্তাফিজ (৩৭) ও শরিফুল (৪০) মিলে ১১ ওভারে দিয়েছেন ১২৩ রান। পেসারদের ওভারে গড়পড়তা ১১.১৮ রান করে তুলেছেন ক্যারিবীয় ব্যাটাররা।