শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রামে শিশু সালমা হত্যা: একজনের জবানবন্দি

| প্রকাশিতঃ ২২ জুন ২০১৭ | ৯:১০ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে শিশু সালমা আক্তার হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ইমন হাসান (২০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল-ইমরান খান এ জবানবন্দি নেন।

১৩ জুন বাসা থেকে বেরিয়ে বাবার কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট আতাতুল ক্যাডেট মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমা আক্তার। ৯ বছর বয়সী সালমা বাদুরতলার শাহ আমানত সোসাইটি এলাকার মো. সোলায়মানের মেয়ে। সোলায়মান অটোরিকশা ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক।

গত ১৫ জুন ভোরে নগরীর পাঁচলাইশ থানার বাদুরতলায় নঈমিয়া ভবন নামে একটি মার্কেটের তিনতলায় ময়লার স্তূপে কাঠের বাক্সভর্তি সালমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে নগরীর বহদ্দারহাট বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয় ইমন হাসান নামের এক যুবককে।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালিউদ্দিন আকবর বলেন, মাছ কাটাকে পেশা হিসেবে নেয়া ইমন ও ধর্ষণের ঘটনাস্থল জোয়াং করপোরেশন নামে একটি সেনিটারি দোকানের কর্মচারি জীবন এ ঘটনায় জড়িত। ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে তারা। এসব বিষয় আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছে ইমন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে ইমন জানিয়েছেন, ধর্ষণের ঘটনাস্থল নঈমিয়া ভবনের পাশে শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটিতে সালমাদের বাসা। পাশাপাশি বাসা হওয়ায় জীবনের সঙ্গে সালমার পরিচয় ছিল। তবে ইমনের সঙ্গে পরিচয় ছিল না। ১৩ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সালমাকে প্রলোভন দেখিয়ে নঈমিয়া ভবনের তিনতলায় জোয়াং করপোরেশনের গোডাউনে নিয়ে যায় জীবন। সেখানে আগে থেকে ছিল ইমন। নির্জন ওই স্থানে সালমাকে প্রথমে ধর্ষণ করে জীবন। এসময় ইমন পাহারায় থাকে। এরপর তাকে দ্বিতীয় দফা ধর্ষণ করে ইমন।

আদালতে ইমন আরও জানান, এসময় ধর্ষকদের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য সালমা কাঁদতে কাঁদতে বিষয়টি তার বাবা ও মামাকে জানিয়ে দেবে বলে জানায়। সালমার বাবা ও মামা প্রভাবশালী হওয়ায় চিন্তায় পড়ে যায় ইমন ও জীবন। ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তারা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয় সালমাকে মেরে ফেলার। সালমার মাথার থাকা হিজাব গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে জীবন ও ইমন। এরপর জীবন ওই ভবনের নিচতলায় দোকানে চলে যায়। ইমন স্বাভাবিকভাবে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে চলে যায়। গভীর রাতে আবারও দুজন এসে তৃতীয় তলায় রাখা একটি কাঠের তৈরি কার্টনে আর্বজনা চাপা দিয়ে রাখে সালমার মরদেহে।

ঘটনায় জড়িত জীবনকে গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ পরিদর্শক ওয়ালিউদ্দিন আকবর।