শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

ইয়াবা কারবারিদের আওয়ামী লীগ নেতা বানালেন বদি!

| প্রকাশিতঃ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ২:২৪ অপরাহ্ন


জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে এক ডজনের বেশি ইয়াবা কারবারি, তালিকাভুক্ত হুন্ডি কারবারি ও এক ঝাঁক বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মী স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর টেকনাফ পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলম বাহাদুর স্বাক্ষরিত ৬৭ জন বিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়। যদিও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ বলছে, বদির বিতর্কিত পৌরসভা কমিটি এখনো অনুমোদন পায়নি।

গেল ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় পৌরসভা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃংখলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সম্মেলন বয়কট করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরপরই অনেকটা তড়িঘড়ি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের চারদিন আগে ৮ সেপ্টেম্বর এ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটিতে স্থান পাওয়া বদির ভাই আব্দুস শুকুর, কাউন্সিলর রেজাউল করিম মানিক, আব্দুল আমিন ও জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ইয়াবার মামলা আছে। এদের মধ্যে আব্দুল আমিন ও আব্দু শুক্কুর আত্মস্বীকৃত মাদক কারবারি। এ ছাড়াও মো. ফারুক, কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান, উসমান, আব্দুস সামাদ উরফে লালু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত হুন্ডি কারবারি। এদের মধ্যে কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান দুদকের মামলার আসামিও।

এ ছাড়াও নূর হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, নুরুল আলম, সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ, কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান বিএনপি বিভিন্ন কমিটির সদস্য এবং আবুল কালাম সাবেক ছাত্রসমাজ নেতা। এরা কেউই আওয়ামী লীগের নূন্যতম প্রাথমিক সদস্যপদ নেয়া ছাড়াই সরাসরি পৌর কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। অভিযোগ আছে, এরা প্রত্যেকেই সাবেক এমপি বদির ঘনিষ্ঠজন এবং তিনিই তাদের কমিটিতে স্থান দিয়েছেন।

এদিকে কমিটি ঘোষণার পরপরই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে ডজনের বেশী মাদক কারবারিকে। মাদক মামলার আসামি, হুন্ডি কারবারি, দুর্নীতি মামলার আসামি, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা কর্মীদের কমিটিতে রাখা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করছেন নেতাকর্মীরা।

টেকনাফ আওয়ামী লীগের নেতাদের অভিযোগ, আবদুর রহমান বদি তার ঘনিষ্ঠ ও মাদক কারবারিদের আওয়ামী লীগ নেতা বানানোর নতুন মিশনে নেমেছেন।

এ বিষয়ে জানতে সাবেক এমপি ও টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান বদির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। কথা বলতে রাজি হননি পৌর কমিটির দায়িত্বশীল নেতারাও।

তবে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) জাহেদ হোসেন বলেন, টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলেও সেটি এখনো আনুমোদন দেয়া হয়নি।

গঠনতন্ত্র বহির্ভূত বিতর্কিত সম্মেলন ও মাদক কারবারি নিয়ে কমিটি গঠন করায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর। এ কারণে এ বিতর্কিত কমিটি অনুমোদন না দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) এডভোকেট ফরিদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোন কেটে দেন।