
চট্টগ্রাম : নাজমুল হোসেন শান্ত আগেই ৫০ ছুঁয়েছিলেন। এরপর জাকির হাসানের ফিফটিতে প্রথম সেশনে ভারতকে কেবল হতাশাই উপহার দিলো বাংলাদেশ। এই সেশনে ভারতীয় বোলাররা বাংলাদেশের কোনো উইকেট তুলে নিতে পারেনি। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে টাইগারদের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ১১৯ রান।
চট্টগ্রাম টেস্ট জিততে প্রায় অসম্ভব এক লক্ষ্যের পেছনে ছুটছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ৫১৩ রানের কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে জাকির হাসান ও নাজমুল হোসেনের ওপেনিং জুটিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শান্তর হাফ সেঞ্চুরির পর অভিষিক্ত জাকিরও হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর ৪২ ওভারে বিনা উইকেটে ১১৯। যেখানে শান্ত ১৪৩ বল খেলে ৭ চারে সংগ্রহ করেছেন ৬৪ রান। আর তার সঙ্গে ৫৫ রান নিয়ে ব্যাটিং করছেন অভিষিক্ত জাকির হাসান। জয় থেকে আর ৩৯৪ রান দূরে আছে বাংলাদেশ। এখন বাকি ৫ সেশন, হাতে ১০ উইকেট।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে ব্যাটিংয়ে নামেন আগের দিন অবিচ্ছিন্ন থাকা জাকির ও শান্ত। আগের দিনের মতো এদিনও দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন দুই ব্যাটার। মোহাম্মদ সিরাজকে পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে দলের রান পঞ্চাশে নিয়ে যান শান্ত। লাঞ্চে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে সিরাজকে চার মেরে দলের রান একশোতে নিয়ে যান শান্ত। শনিবার ভারতের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা ওপেনিং জুটিও উপহার দিয়েছেন দু’জন। আগের সেরা জুটি ছিল এই চট্টগ্রামেই। ২০১০ সালে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস করেছিলেন ৫৩ রান। দুই বাঁহাতি ওপেনার শান্ত ও জাকির সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন সামনে।
লিটন দাসকে চটিয়ে দিয়ে যেভাবে প্রথম ইনিংসে আউট করেছিলেন সিরাজ। ঠিক সেভাবেই শান্তকেও তাতিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। আগের ইনিংস থেকে শিক্ষা নেওয়া শান্ত ভুল করেননি। ভারতীয় পেসার সিরাজ বার বার মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করলেও তাকে বিন্দুমাত্র পাত্তা দেননি বাঁহাতি এই ব্যাটার। চলতি বছর খেলা ৯ টেস্ট খেলা বাংলাদেশ দলের এটা দ্বিতীয় একশো ছোঁয়া ওপেনিং জুটি। চলতি বছর একবারই একশো রানের জুটি গড়তে পেরেছিল বাংলাদেশ। চলতি বছর মে মাসে লঙ্কানদের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টেই তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয় ১৬২ রানের জুটি গড়েছিলেন।
চলতি ম্যাচের প্রথম ইনিংসে গোল্ডেন ডাক মেরে ‘বাজে’ রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই শান্তই দ্বিতীয় ইনিংসে দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন। দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুন সাবলীল ব্যাটিং করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। এদিন ১৫ ইনিংস পর তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। অশ্বিনের বলটি অফসাইডে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ১০৮ বলে ৬ চারে এই মাইলফলকে পৌঁছান বাঁহাতি এই ব্যাটার। অপেক্ষায় আছেন তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার।
শান্তর পর অভিষিক্ত জাকিরও তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। দারুন ছন্দে থেকেই চট্টগ্রামে অভিষেক হয় জাকিরের। ২০২১ সালে এক বর্ষপঞ্জিকায় ১ হাজার রান করে আলোচনায় ছিলেন ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটার। চলতি বছর ঘরোয়া ক্রিকেট ৪৪২ রান করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। এর পর তো ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে তার ম্যাচ বাঁচানো ১৭৩ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংসে সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় দলে। প্রথম ইনিংসে দৃঢ়তা দেখালেও ২০ রানের বেশি করতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে দিলেন আস্থার প্রতিদান। অক্ষর প্যাটেলের প্রথম বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মিড উইকেটের উপর দিয়ে চার মেরে ৪৯ রানে পৌঁছে যান জাকির। একবল পরে মিডঅনে সিঙ্গেল নিয়ে তুলে ফেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। ১০১ বলে ৭ চারে মাইলফলকে পৌঁছান জাকির।
চতুর্থ ইনিংসে ৫১৩ রান চেজ করার ইতিহাস নেই কারও। ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা বলেই অনেক কিছু ঘটে প্রতিনিয়ত। কেউ রেকর্ড গড়েন, সেই রেকর্ড আবার অন্য কেউ নিজের করে নেন। বাংলাদেশের সর্বচ্চে চেজ করে জেতার রেকর্ড ২১৭ রান হলেও ক্রিকেট ইতিহাসে ৪১৮ রান চেজ করে জেতার রেকর্ড আছে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আগের দিন ১২ ওভারে ৪২ রান নিয়ে শেষ করেছিল বাংলাদেশ। শনিবার প্রথম সেশনে খেলেছে ৩০ ওভার। প্রথম দুই ঘন্টায় কোন উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৭৭। দ্বিতীয় সেশনে দুই ওপেনার প্রথম সেশনের ধারাবাহিকতা রাখতে পারলে চট্টগ্রাম টেস্টে রেকর্ডবুক ওলট-পালট করে দেওয়া কোনও ব্যাপারই হবে না!