শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

যৌন হয়রানির দায়ে চাকরিই গেল জবি শিক্ষক রাজীব মীরের

| প্রকাশিতঃ ১০ জুলাই ২০১৭ | ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন

ঢাকা : যৌন হয়রানির দায়ে শেষতক স্থায়ীভাবে চাকরিই হারালেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মীর মোশাররফ হোসেন (রাজীব মীর)।

একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরি থেকে তাকে চূড়ান্ত অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

প্রতিটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় রোববার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৭৪ তম সভায় স্থায়ীভাবে তার চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এর আগে গত বছরের ৫ এপ্রিল সাংবাদিকতা বিভাগের এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে রাজীব মীরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, যৌন প্রস্তাব অন্যথায় একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দেয়াসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগকরেন।

ছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ট্রেজারার সেলিম ভুঁইয়াকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় একই বছরের ১১ এপ্রিল রাজীব মীরকে সবধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ওই কমিটির তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মেলায় ২৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ৭১ তম সিন্ডিকেট সভায় রাজীব মীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে এপ্রিলে ওই ছাত্রীর অভিযোগের পর সাংবাদিক বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের আরও কয়েকজন ছাত্রী রাজীব মীরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলে রাজীব মীরের যৌন হয়রানির তদন্ত শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লাইসা আহমেদ লিসার নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাবিভাগের শিক্ষিকা ড. হোসনে আরা বেগম জলিসহ কয়েকজন শিক্ষক সদস্য ছিলেন।

তদন্ত চলাকালে অভিযোগকারীরা মোবাইল ফোনের রেকর্ড, ফেসবুক চ্যাট, ম্যাসেজসহ বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি ছাত্রীদের সিনেমা হলে যেতে বাধ্য করা, বাসায় নিয়ে যাওয়া, একসঙ্গে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টাসহ নানা অভিযোগ উঠে আসে।

এই কমিটির তদন্তেও রাজীব মীর দোষী প্রমাণিত হন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলের প্রতিবেদনে রাজীব মীরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, সব তদন্তে রাজীব মীর দোষী সাব্যস্থ হওয়ায় স্থায়ীভাবে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

চাকরিচ্যুত রাজীব মীরের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবনে বিভাগের বড়ভাই স্বেচ্ছাসেবক সেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির গণযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, রাজীব মীর আমার খুব স্নেহভাজন ছিলো। আমিই তাকে চাকরিটা পেতে সহযোগিতা করেছিলাম। আজ কৃতকর্মের জন্য সে চাকরিটা হারালো। তার চাকরিচ্যুতিতে সবচেয়ে বেশি আমারই খারাপ লাগছে। কত করে বলেছি একটু শুধরে চলো, নিজের মেধা কাজে লাগাও, ক্যারিয়ারে ব্রতী হও। কিন্তু সে শুনলো না।’