কক্সবাজার: বিয়ের নামে প্রতারণা করে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে বাপ্পি শর্মা নামে কক্সবাজারের এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। সহপাঠিনীর স্ত্রীর মর্যাদার দাবীতে আন্দোলনে নেমেছে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে যোগ দেয় এলাকার লোকজনও। ভূক্তভোগী ওই নারী কক্সবাজার কমার্স কলেজের ছাত্রী।
মানববন্ধনে কক্সবাজার কমার্স কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, আমাদের সহপাঠিনীকে যদি বাপ্পী শর্মা স্ত্রীর মর্যাদা না দেয় তাহলে আরো কঠিন কর্মসূচি দেয়া হবে। বাপ্পী শর্মা বিয়ে করে তা এখন অস্বীকার করছে। এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমাদের সহপাঠিকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতেই হবে।
জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের নতুন মহাল গ্রামের রনজিত শর্মার ছেলে এড. বাপ্পী শর্মা শহরের বৈদ্যঘোনা এলাকার ওই কলেজ শিক্ষার্থীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সর্ম্পক ছিল। বাপ্পী শর্মা তার দূর সর্ম্পকিত আত্মীয় হওয়ার সুযোগে প্রায় সময় বাপ্পী তাদের বাড়িতে যাওয়া আসা করতো। এই সুযোগে বাপ্পী শর্মার সাথে তার প্রেমের সর্ম্পক গভীরতায় রূপ নেয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ছাত্রীর মা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বাপ্পীর মামা মৃদুলকে জানান এবং বিষয়টি বাপ্পীর বাবাকে জানানোর কথা বলে। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে এড. বাপ্পি শর্মা গত ১ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ছৈয়দ আলমের চেম্বারে ওই ছাত্রীকে নিয়ে গিয়ে ২ শত টাকার নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে যৌথ বিবাহের হলফনামা করে। এতে আইনজীবি হিসেবে আবুল হোসেন স্বাক্ষর করেন।
এরপর বাপ্পীর সাথে ওই ছাত্রীর শারিরীক সর্ম্পক গড়ে উঠার এক পর্যায়ে সে গর্ভবতী হলে বাপ্পী তাকে শহরের ঝাউতলা গাড়ির মাঠস্থ এক নারীর কাছে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। এরপর থেকে বাপ্পী ওই ছাত্রীকে আজ না কাল আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়িতে নিয়ে যাবে সময় দিতে থাকে।
এদিকে ভূক্তভোগি শিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, সম্প্রতি বাপ্পী শর্মার সাথে কুতুবদিয়ার একটি মেয়ের বিয়ের কথা ঠিক হয়েছে। তা জানতে পেরে ওই ছাত্রী বাপ্পীর সাথে যোগাযোগ করলে সেসব সর্ম্পকের কথা অস্বীকার করে এবং তাকে বিয়ে করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। পরে হফলনামার নকল তুলতে গেলে জানতে পারি- বাপ্পী শর্মা জালিয়াতির মাধ্যমে ওই হলফনামা সৃজন করেছে।
তারা আরো জানান, ন্যায় বিচার পেতে ইতোমধ্যে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ- বাপ্পী শর্মা বর্তমানে বিভিন্নভাবে তাকে এবং তার পরিবারের লোকজনকে হুমকি প্রদান করে আসছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এই ব্যাপারে এডভোকেট বাপ্পী শর্মা বলেন, তারা আমার দূর সর্ম্পকের আত্মীয়। এই সুবাদে তাদের সাথে আমার কিছু লেনদেন হয়েছে। বিয়ের কোনো প্রশ্নেই আসে না। তাছাড়া কাবিন নামায় যে স্বাক্ষর রয়েছে ওটা নকল।