সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

ইউক্রেন যুদ্ধে ১১ হাজার বেসামরিক নিহত: জাতিসংঘ

| প্রকাশিতঃ ৯ মার্চ ২০২৪ | ২:২৩ অপরাহ্ন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কমপক্ষে ১০ হাজার ৭০৩ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

শুক্রবার ইউক্রেনের ওপর নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক সহকারী প্রধান মোহাম্মদ খালেদ খিয়ার বলেন, নিহতদের মধ্যে ৫৯৪ শিশু রয়েছে। এছাড়াও ১ হাজার ৩১৬ শিশুসহ আরও ২০ হাজার ১৪৬ জন আহত হয়েছে।

এ যুদ্ধ এখনই বন্ধ করা উচিত বলে উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সমস্ত হামলার নিন্দা জানাই, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ।’

এদিকে জাতিসংঘের মানবিক অর্থায়ন ও সম্পদ সংহতি বিভাগের সমন্বয়ক লিসা ডাউটেন বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং বেসামরিকদের সুরক্ষার জন্য সকল পক্ষের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে।

লিসা আরও দাবি করেন, ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদেরে সবার কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হচ্ছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে রুশ-অধিকৃত ডোনেটস্ক, খেরসন, লুহানস্ক এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কিছু অংশে মানবিক সহায়তা প্রবেশাধিকার সীমিত।

তিনি জানান, আনুমানিক ১৫ লাখ ইউক্রেনীয়র জীবন রক্ষাকারী সহায়তার প্রয়োজন।

গত মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, এই যুদ্ধে ৩১ হাজার ইউক্রেনীয় সৈন্য মারা গেছে। তিন লাখ বা দেড় লাখ নয়। অথবা পুতিন ও তার মিথ্যাবাদী চক্র যা বলছে তা নয়। তবে তিনি আহতদের সংখ্যা জানাননি, কারণ এটি রাশিয়ার সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা করবে।

যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা বলতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের এলাকায় কয়েক হাজার বেসামরিক মানুষ মারা গেছে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি।

“তাদের মধ্যে কতজন মারা গেছে, কতজন নিহত হয়েছে, কতজনকে হত্যা করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে, কতজনকে নির্বাসিত করা হয়েছে তা আমি জানি না।” বলেন তিনি।

ইউক্রেনের পক্ষে সামরিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রদান করা বিরল এবং অন্যান্য অনুমান অনেক বেশি সংখ্যার ইঙ্গিত দেয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা আগস্টে ইউক্রেনের সেনা নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার এবং আহত এক লাখ ২০ হাজার বলে উল্লেখ করেছেন।

রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে জেলেনস্কি বলেন, এক লাখ ৮০ হাজার রুশ সৈন্য নিহত হয়েছে এবং আরও কয়েক হাজার আহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। মূলত ইউক্রেন যাতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে না পারে তা ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে এই অভিযান শুরু করেছিল রাশিয়া। ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিলে তা রাশিয়ার জন্য নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে উল্লেখ করে বারবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সতর্ক করেন পুতিন। তা সত্ত্বেও ন্যাটোর সদস্য হতে তোড়জোড় শুরু করেন জেলেনস্কি।

এরপরই একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ব ইউক্রেনের রুশ-সমর্থিত দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী এলাকা, দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জবাবে রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে বলে জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ভাষণ দেন পুতিন এবং ঘোষণা করেন ইউক্রেনে একটি ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরুর। ঘোষণার কয়েক মিনিট পর কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।