মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

গৃহকর নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে : মেয়র নাছির

| প্রকাশিতঃ ১৮ অক্টোবর ২০১৭ | ৫:৩২ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: বর্ধিত গৃহকর নিয়ে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। গৃহকর নিয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে আপিল করার জন্য নগরবাসীর প্রতি পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। বুধবার দুপুরে নগরভবনের কেবি আবদুচ ছাত্তার মিলনায়তনে ‘সিটি করপোরেশনের অধিক্ষেত্রে ইমারত ও জমির পঞ্চবার্ষিক মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে’ সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এসব কথা জানান।

বর্ধিত গৃহকরের বিরুদ্ধে সাবেক দুই মেয়রের চিঠি, করদাতা সুরক্ষা পরিষদের আন্দোলন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের মধ্যে নিজের বক্তব্য জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

গৃহকরইনয়ে নিজের অনড় অবস্থান তুলে ধরে মেয়র বলেন, কর পুনর্মূল্যায়ন আমি প্রথম করছি এমন নয়। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্তও হয়েছিল। সিটি করপোরেশন কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। নাগরিকদের করের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে। আর্থিক সক্ষমতা থাকলেই এই প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারবে। ভঙ্গুর হলে পারবে না। সিটি করপোরেশন কর তফসিল ২০১৬ অনুসারে সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ কর নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নগরবাসীর সুবিধার্থে ১৭ শতাংশ কর আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন গৃহকর নিয়ে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

গৃহকর বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব আগামী জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে এমন অভিযোগের বিষয়ে নাছির বলেন, আমিও আওয়ামী লীগ করি। দলের প্রতি দায়বদ্ধতা আমারও কম না। এগুলো দিয়ে আওয়ামী লীগের ভোট হয় না। জনগণ এত বোকা না। খোলাবাজারে চালের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল কি বাড়ছে না? দারিদ্র্য কমেছে। মানুষের সক্ষমতা বেড়েছে। সরকার ও মন্ত্রণালয় কি কম বুঝে? মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েই গৃহকর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নগরবাসীকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, পরিস্থিতি, প্রেক্ষাপট, দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যক্তিগত রুচি পরিবর্তন হয়েছে। দেশে ক্রমে আইনের প্রয়োগ ও প্রতিফলন হচ্ছে। আইন কথা বলা শুরু করেছে। আমরা কেউ আইন ও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নই। গৃহকর নিয়ে আপত্তি নিষ্পত্তিতে আপিলের করতে হবে। ইতিমধ্যে নতুন গৃহকর নিয়ে ৪০ হাজার আপিল জমা পড়েছে। দ্রুতই রিভিউ বোর্ড কাজ শুরু করবে। রিভিউ বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দৃঢ় বিশ্বাস, রিভিউ বোর্ডের সিদ্ধান্তে সকলেই খুশি হবেন। ভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকর নির্ধারণের বিকল্প কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই। সিটি করপোরেশনের প্রাপ্য কর পরিশোধে ‘ইতিবাচক’ মানসিকতা সৃষ্টি হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন কর তফসিল ২০১৬ অনুসারে ইমারত ও জমির কর ৭ শতাংশ, আবর্জনা নিষ্কাশন ৭ শতাংশ, সড়ক বাতি ৫ শতাংশ ও স্বাস্থ্যকর ৮ শতাংশ মিলিয়ে মোট ২৭ শতাংশ কর নেওয়ার বিধান আছে। যেখানে ২৭ শতাংশ নেওয়ার কথা নগরবাসীর সুবিধার্থে সেখানে আগের মতো ১৭ শতাংশ নিচ্ছি। এটাও যেভাবে গণমাধ্যমে হাইলাইট করা উচিত ছিল সেভাবে হয়নি। আইন নিয়ে কেউ প্রশ্ন উত্থাপন করলে বা সংশোধনের প্রত্যাশা করলে সে সুযোগ কি আমার আছে?

মেয়র বলেন, প্রাথমিক পুনর্মূল্যায়নে সর্বমোট এক লাখ ৮৫ হাজার ২৪৮টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে প্রস্তাবিত গৃহকর দাবি ৮৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে নতুন ২৮ হাজার ৭০২ হোল্ডিংয়ের বিপরীতে গৃহকর দাবি ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। নতুন হোল্ডিং বাদে দাবির পরিমাণ হয় ৮০৪ কোটি টাকা। আগের মূল্যায়নে দাবি ছিল ২০০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। তাহলে কর দাবির পরিমাণ চার গুণ বেড়েছে। সেটাও প্রাথমিক, চূড়ান্ত নয়। আপিলে চূড়ান্ত হবে।

সাবেক দুই মেয়রের চিঠির প্রতি ইঙ্গিত করে মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, একেক জনের চিঠির বিষয়বস্তু ভিন্ন। সাবেক দুই মেয়রসহ যারাই চিঠি দিয়েছেন সবার চিঠির আলাদা জবাব দেব। ঢালাওভাবে ২০, ৪০, ৬০ এমনকি শতগুণ বা তারও বেশি বেড়েছে বলে চিঠি এসেছে। ১৯৯৪-২০১৫ সাল পর্যন্ত চসিক কর্তৃক ধার্য করের মাত্র ২১ দশমিক ১৫ ভাগ এবং গত দুই বছরে দাবির সাড়ে ৩১ শতাংশ আদায় হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে চসিকের পরিচালনা ও উন্নয়ন খাতে ৪৫৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ের মধ্যে মাত্র ২৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা বেসরকারি করদাতাদের অবদান এবং সরকারি বরাদ্দ মাত্র ৪০ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

করদাতা সুরক্ষা পরিষদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, উনারা মামলা করে হেরে গেছেন। ঢাকায় হয়ত আমাদের চেয়ে কম নিচ্ছে রংপুর, রাজশাহীতে অনেক বেশি নিচ্ছে। গৃহকর না বাড়িয়ে আগের মেয়ররা কিভাবে চসিক পরিচালনা করেছেন সেটা উনারা বলবেন। আমরটা আমি বলব। আগে বেতন-ভাতায় ব্যয় ছিল ৭১ কোটি টাকা এখন ১৯১ কোটি টাকা। তাদের দায় দেনার ১৫৭ কোটি টাকা আমি পরিশোধ করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে চসিকরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুদ্দোহা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান, কাউন্সিলর হাসান মাহমুদ হাসনী, শৈবাল দাশ সুমন, হাসান মুরাদ বিপ্লব, ইসমাইল বালি, আবিদা আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।