মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

সুদীপ্ত খুনে গ্রেফতার বাবু ও খায়েরকে রিমান্ডে চায় পুলিশ

| প্রকাশিতঃ ১৮ অক্টোবর ২০১৭ | ৮:৪০ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার আমির হোসেন বাবু এবং খায়রুল নূর ইসলাম ওরফে খায়ের নামে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে লালখান বাজারের বাঘঘোনা এলাকা থেকে থেকে তাদের গ্রেফতারের পর বুধবার আদালতে হাজির করা হয় বলে জানান সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার।

তিনি বলেন, সুদীপ্ত খুনের ঘটনায় বাবু ও খায়ের জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত।

এর আগে গ্রেফতার হওয়া মোক্তার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু ছালেম মো. নোমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান ওসি মর্জিনা আক্তার।

গত ৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সুদীপ্তকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টায় তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনের বিরুদ্ধে সুদীপ্তর বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস মামলা করলেও পুলিশ বলছে, ঘটনায় জড়িত অনেকেই। চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতার অনুসারীরা সুদীপ্ত হত্যার ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

হত্যাকান্ডে সাত-আটজন সরাসরি অংশ নিলেও ঘটনাস্থলের অদূরে নিউমার্কেট মোড় ও কালীবাড়ি মন্দির মোড়ে আরও ৩৫-৪০ জন ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে। খুনের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর রাতে মোক্তার হোসেন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বুধবার আদালতে ১৬৩ ধারায় জবানবন্দি দেন মোক্তার।

সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার বলেন, ঘটনার দিন সুদীপ্তকে মারতে গিয়েছিল ৩৫ থেকে ৪০জন। এদের মধ্যে ৬ থেকে ৯ জন সুদীপ্তের বাড়িতে যায়। বাকিরা ব্যাকআপ টিম হিসেবে ঘটনাস্থলের অদূরে ছিল। দুই ঘন্টার জবানবন্দিতে সেদিনের খুনের ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছেন মোক্তার। দলবেঁধে যারা সুদীপ্তকে মারতে গিয়েছিল তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের নাম প্রকাশ করেছে সে। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, হত্যাকান্ডে অংশ নেয়ার কথা জবানবন্দিতে স্বীকার করার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ১৫ থেকে ২০ জনের নাম প্রকাশ করেছে মোক্তার। তারা হলেন- মোরশেদ আলম নিপু, আইনুল কাদের নিপু, জাহেদুর রহমান জাহিদ ওরফে বেবি জাহিদ, হানিফ, মুরাদ, জিহাদ, ফয়সাল, রুবেল, চশমা রুবেল, টাংকির পাহাড়ের রুবেল, বাপ্পী, খায়ের, শামীম, বাবু, সুমন। তবে সুদীপ্ত খুনের নির্দেশদাতা কে ছিলেন সে বিষয়ে কিছু জানাননি মোক্তার।