মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

৯৫ বছর বয়সেও ভরা যৌবন!

| প্রকাশিতঃ ২৫ অক্টোবর ২০১৭ | ৭:৩১ অপরাহ্ন

আরিফুজ্জামান আরিফ, যশোর : জীবনযুদ্ধে ৯৫ বছর বয়সেও যেন পুরো যৌবন! এ বয়সেও একজন যুবকের মত হাড়ভাঙ্গা খেঁটে-খেয়ে যাচ্ছেন। শারীরিক গঠনও বেশ বলিষ্ঠ। বোঝার উপায় নেই তিনি প্রায় শতবর্ষী। দেদারছে ভ্যান চালিয়ে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন এখনো। এমনই একজন ব্যক্তি সোনা গাজী।

কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী গ্রামের মৃত ফকির চাঁন গাজীর ছেলে সোনা গাজী। হিজলদী গ্রামের পূর্ব পাড়া ব্রীজ এলাকায় বসবাস। এলাকার অনেকে তাকে ঘেনা নামে ডাকে।বর্তমানে ৯৫ বছর বয়স ঘেনার।

অত্যন্ত গরীব ও অসহায় এ ব্যক্তির সাড়ে ৩ শতক ভিটেবাড়ি ছাড়া কোনো জমি নেই। নেই কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পদও। কিন্তু তাতে কী! হার মানেনি অভাবের কাছে। গত ৫০ বছর ধরে ভ্যান চালিয়ে জীবন-জীবিকা পার করে আসছেন। আগে পায়ে চালানো ভ্যানে রোজগার করতেন, গত ৫/৬ মাস আগে ঋণ নিয়ে সেই ভ্যানে ব্যাটারি-মোটর (পাখি ভ্যান) বানিয়েছেন। ভ্যান চালাতে তাই এখন একটু কম কষ্ট হয়। প্রতিদিন ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা ইনকাম করেন তিনি। রয়েছে স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেদের আলাদা সংসার করে দিয়েছেন। তাদের আর্থিক অবস্থাও ভালো না। ভ্যান চালানোর পাশাপাশি নাতি-পুতিদের সাথে খুনসুটি করে সময় কাটে বুড়ো-বুড়ির। খাওয়া দাওয়া চলে ছোট ছেলের সংসারে। -এমনটাই জানালেন বয়সের সেঞ্চুরির কাছে পৌঁছানো সোনা গাজী ওরফে ঘেনা।

তিনি জানান- ‘ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল দেখে এখন শেষ বয়সে স্বাধীন বাংলাদেশে আছি।’

স্বাধীনতার কথা বলতেই চোখ ছলছল করে উঠলো সোনা গাজীর। বলেন ‘আমি ও আতিয়ার (মারা গেছে) ৭১-এ মুক্তিফৌজদের গুলি বহন করেছি, খাবার-দাবার বহন করেছি, বন্দুকও বহন করেছি। তবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ওঠানো হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বিভিন্ন এলাকায়ও গেছি। এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, ফরিদপুর, নয়াগ্রাম, দোয়ানিগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার মুক্তিফৌজদের সাথে থেকে তাদের সহযোগিতা করেছি।’

ভ্যান চালাতে চালাতে আক্ষেপ করে ঘেনা জানান- ‘আমি বয়স্ক ভাতা পেয়েছি। তবে শুনেছি সরকার আরো অনেক সহযোগিতা করে। যদি কোনো সহযোগিতা পেতাম তবে সুবিধা হতো।’

পরিবারের কথা জানতে চাইলে তিনি জানান- ‘আমার ৪ ছেলে বাছির, গফুর, রহিম ও রাজীব সকলেরই আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। ৩ মেয়ে হাসিনা, তানজিলা ও আনজুয়ারা, তাদের বিয়ে দিয়েছি। কোনো ফসলী জমি নেই আমার। ছেলেরা ‘জনমজুরি’ দিয়ে (কামলা বা শ্রম দিয়ে) ও ভ্যান চালিয়ে সংসার চালায়।’

এত কিছুর পরেও তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই। আল্লাহ ভালো-ই রেখেছেন। শরীর মাঝে মধ্যে একটু খারাপ করলেও শারীরিক শক্তি যেন কমেনি এতটুকুও।

প্রায় শত বছর বয়সেও মনের যৌবনে উজ্জ্বীবিত সোনা গাজী মাইলফলক হয়ে থাক সমাজের সবার মাঝে।তার প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।