মোর্শেদ নয়ন : সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় ভাই-বোনের কথিত অশ্লীল ছবি। এরপর ভিন্ন অভিযোগ নিয়ে ওই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করতে কর্ণফুলী থানায় যান দুই ব্যক্তি; তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে চাঞ্চল্যকর তথ্য!
কর্ণফুলী থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘মো. ফোরকান ও তার বাবা কবির আহমদ বৃহস্পতিবার দুপুরে থানায় এসে অভিযোগ করেন তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে প্রতিবেশী অাবছার। এই বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা নিতে তারা পুলিশকে অনুরোধ করেন। এরপর আবছারকে থানায় ডেকে আনা হয়। তখন আবছার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে উল্টো অভিযোগ করেন। ২২ বছর বয়সী আবছার পুলিশকে জানান, সে ও তার স্কুল পড়ুয়া বোনের অশ্লীল ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে কেউ।’
বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেন কর্ণফুলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাসান ইমাম। এরপর উঠে আসে ভিন্ন তথ্য।
কর্ণফুলী থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফোরকানের মুঠোফোন নাম্বার ফেসবুকে সার্চ করে একটি আইডির সন্ধান পাওয়া যায়; যে আইডি থেকে আবছার ও তার স্কুল পড়ুয়া বোনের কথিত অশ্লীল ছবি ছড়ানো হয়েছিল।’
‘পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফোরকান স্বীকার করেন ফটোশপের মাধ্যমে ছবি কারসাজি করে আবছার ও তার বোনের অশ্লীল ছবি তৈরী করা হয়। এরপর একটি ফেসবুক আইডি খুলে সেখানে ওইসব ছবি আপলোড করেন তিনি।’
ওসি বলেন, ‘শাহমীরপুর এলাকার বাসিন্দা ফোরকান ও আবছারদের মধ্যে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে আবছারকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে আসছিল ফোরকান। এরই অংশ হিসেবে এই অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্ককে ফোরকান কলঙ্কিত করেছে।’
প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর আবছারের দায়ের করা মামলায় ফোরকানকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান কর্ণফুলী থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম।