
মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপিকে ভেঙে দুর্বল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্রান্তকারী মহল দলকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এ মহলটি দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে। বিশেষ করে, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএ জিন্নাহ কবিরকে লক্ষ্য করে এই ষড়যন্ত্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, জেলার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে যোগসাজশ করে এই চক্রটি তাদের নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য বিএনপিকে দুর্বল করার পরিকল্পনা করছে। তারা চায় না বিএনপি এলাকায় শক্তিশালী হয়ে উঠুক, বরং বিএনপিকে বিভক্ত করে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে বদ্ধপরিকর।
এসএ জিন্নাহ কবিরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দলীয় প্রধানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, জিন্নাহ কবিরের নেতৃত্বে মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং অবৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, এই অভিযোগের পেছনে রয়েছে একটি বিশেষ মহল যারা বিএনপির ভেতরে অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
জেলা বিএনপির নেতারা জানান, এই অভিযোগটি করানো হয়েছে ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সফিউদ্দিন আহমেদের নামে। সফিউদ্দিন আহমেদ গত ১৫ বছর ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে যুক্ত থেকে নানা অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দলের নেতাদের মতে, সফিউদ্দিনকে নগদ অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা অভিযোগ করতে প্রলুব্ধ করা হয়েছে।
বিএনপির নেতাদের দাবি, সফিউদ্দিনের পেছনে একজন সাবেক শীর্ষস্থানীয় নেতার রাজনৈতিকভাবে অচল পুত্র রয়েছেন, যিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেতে চান। তিনি বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে জিন্নাহ কবিরের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি কখনও দলের কোনো প্রোগ্রামেও অংশগ্রহণ করেননি।
দলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এই ব্যক্তি ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে জিন্নাহ কবিরের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন। তার মূল উদ্দেশ্য হলো- জিন্নাহ কবিরকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেয়া এবং নিজে মনোনয়ন লাভ করা। বিএনপি নেতারা জানান, এ ষড়যন্ত্রের পেছনে রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর কিছু লোক রয়েছেন, যারা নিজেরা জনপ্রিয় না হয়ে অন্যের জনপ্রিয়তা ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এসএ জিন্নাহ কবিরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একটি মহল আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। এই অভিযোগও তাদের সেই চক্রান্তের অংশ। অভিযোগকারী সফিউদ্দিনের পক্ষে এতো বড় অভিযোগ করা সম্ভব নয়, বরং তার পেছনে একজন বিশেষ ব্যক্তি রয়েছেন যিনি সফিউদ্দিনকে ব্যবহার করছেন।”
জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরাও এসএ জিন্নাহ কবিরের পক্ষে জোরালোভাবে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মতে, জিন্নাহ কবির একজন সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা, যিনি দলের স্বার্থ রক্ষার জন্য অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা আরও বলেন, “জিন্নাহ কবির একজন জনহিতৈষী নেতা হিসেবে এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। আমরা এই মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।”
এসএ জিন্নাহ কবির আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। এটি অনেকের জন্যই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে সেই রাজনৈতিক মহলের যারা নিজেরা এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় রয়েছেন। বিএনপির ভেতরে এই ধরনের রাজনৈতিক চক্রান্ত ও অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে জেলা নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, এসএ জিন্নাহ কবিরের নির্দেশে স্থানীয় সিএনজি ও বাস স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব চাঁদাবাজি ৫ আগস্টের সরকার পতনের পর থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবহন শ্রমিকরা এখন অনেক ভালো আছেন এবং কাউকে কোনো চাঁদা দিতে হচ্ছে না। পরিবহন সেক্টরে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর মূল কারণ খুঁজে বের করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।
এসএ জিন্নাহ কবির আরও বলেন, “আমরা সবসময় দলের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা করি। দলীয়ভাবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন দলে পদহীন যারা বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া কঠিন। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করছি, তারা যেন এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেন।”