
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী কিছু ঘটনায় অবশেষে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনেছে বিএনপি হাইকমান্ড। তাঁর বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, প্রবাসীদের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং সন্ত্রাসী ভাড়া করে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আগামী তিনদিনের মধ্যে তাঁকে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিএনপির কেন্দ্র থেকে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। এ নোটিশে সই করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়েছে, “এলাকায় দলমত নির্বিশেষে ধনী ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায়, ওমানে বসবাসরত সিআইপি ব্যবসায়ী ইয়াসিনের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাঁর রাউজানের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া” এই ধরনের অভিযোগগুলো উঠেছে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয় যে, সিআইপি ব্যবসায়ী মো. ফোরকানের কাছ থেকেও এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তিনি চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
কারণ দর্শানো নোটিশে দলীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর আচরণকেও সমালোচনা করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, “স্বঘোষিত কমিটি ঘোষণা করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে বলেন যে, রাউজান কমিটি গঠন করতে কারোর প্রয়োজন নেই, আমি করবো।” এই মন্তব্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বের প্রতি চরম অবজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
নোটিশে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও রয়েছে যে, তিনি দীর্ঘ ৬ বছর বিদেশে অবস্থান করার পর দেশে ফিরে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে রাউজানে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছেন, যা রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ডসহ উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তাঁর এই কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির হাইকমান্ড তাঁর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব চেয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর এই কার্যকলাপের জন্য দলের শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দলের ভেতর ও বাইরে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপেও তাঁকে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর জবাব এবং প্রতিক্রিয়া নিয়ে দলের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।