
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দীর্ঘ ৩৫ বছর বিরতির পর ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। আগামী মে-জুন মাসে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে ড. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘‘চাকসু নির্বাচনের নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ সংক্রান্ত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে ২ ফেব্রুয়ারি। ধাপে ধাপে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।’’ প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর ছাত্রনেতা ফারুকুজ্জামান নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক বছর পর ১৯৬৬ সালে গঠিত হয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে এই সংসদ গঠিত হয়। প্রথম কেবিনেট নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। পরবর্তীতে ১৯৭১, ১৯৭৩, ১৯৮০ ও ১৯৯০ সালে মোট পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংসদটি অকার্যকর থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
চাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সমাজসচেতনতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশাও রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া কীভাবে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নিয়েও জোরালো আলোচনা চলছে ক্যাম্পাসে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনী নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হলে চবির ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।