ঢাকা : সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের না যাওয়ার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অনন্য অবদানকে স্মরণ করে দিবসটি পালন করা হয়। সেখানে খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা সে অনুষ্ঠানে না গিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন করেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অনন্য অবদানকে অবজ্ঞা করেছে, অশ্রদ্ধা করেছে।
বুধবার (২২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত ‘৭ মার্চের ভাষণ: বাঙ্গালির অহংকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায়, অথচ তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশ আনসারের। বিএনপি দেশরক্ষা বাহিনীকে দিয়ে পুলিশ-আনসারের কাজ করাতে চায়। আর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তাদের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে তারা এ বাহিনীকে সম্মান করে না। এ অসম্মান কোনো ব্যক্তিবিশেষের প্রতি না, পুরো বাহিনীর প্রতি।
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ৭৫’এর পরে এই ভাষণ বাজানো অনেকটা নিষিদ্ধ ছিলো। এই ভাষণ কোথাও বাজানো হলে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, মাইকের দোকান থেকে ক্যাসেট জব্দ করা হয়েছে। রাষ্ট্রিয় বেতারযন্ত্র থেকে এই ভাষণ নির্বাসিত করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যতদিন বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল ৭ই মার্চের ভাষণ রাষ্ট্রিয় প্রচারযন্ত্রে একটি বারের জন্যেও বাজাতে দেওয়া হয়নি। সুতরাং ৭ই মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দেওয়ায় ইউনেস্কো নিজেই সম্মানিত হয়েছে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি লায়ন চিত্তরঞ্জন দাশের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুচ, সুভাষ সিংহ রায় ,জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি এ্যাড. আসাদুজ্জামান দুর্জয়, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা প্রমুখ।