চট্টগ্রামে বর্ধিত গৃহকর ইস্যুতে সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী, চট্টগ্রাম ১০ আসনের সাংসদ ডা. আফছারুল আমীনের প্রস্তাবটিই গৃহীত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় শেষপর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবিত গৃহকরের আপিল শুনানী স্থগিতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় প্রস্তাবিত গৃহকর আদায় বা আপিল শুনানী স্থগিত করেছে। ফলে গত সোমবার থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্বনির্ধারিত আপিল শুনানী বন্ধ করে দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্ধিত গৃহকর নিয়ে দুই শীর্ষ নেতা যখন দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন, উত্তপ্ত হয়ে উঠে চট্টগ্রাম ঠিক সেই মুহূর্তে ডা. আফছারুল আমীন এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। গত ২৫ অক্টোবর একুশে পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে বর্ধিত গৃহকর কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হস্তক্ষেপ চেয়ে ডা. আফসারুল আমীন বলেন, ‘মেয়র সাহেব যদি গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে আনতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমি বলবো ওনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে সহায়তা চাইতে পারেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চাইতে পারেন। কারণ আমরা কে এমপি, কে মেয়র, কে সাবেক মেয়র- এর চেয়ে আমাদের বড় পরিচয় হলো আমরা আওয়ামী লীগের কর্মী।’
সাক্ষাৎকারে আফছারুল আমীন বলেন, ‘ওনাদের দুইজনের বক্তব্য সংগঠনের জন্য শুভ নয়। যেভাবে জল ঘোলা করা হচ্ছে…। আসল কথা হচ্ছে, মানুষকে অসহনীয় গৃহকর থেকে মুক্তি দিতে হবে। মানুষ যেভাবে শান্ত থাকে, মানুষ যেভাবে সাধ্যমতো কর দিতে পারে সে জায়গায় মেয়রকে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কর যদি ৭-৮ গুণ হয়ে থাকে, সেটা তো মানুষ মেনে নেবে না। আগে যে কর ধার্য্য ছিল, তার দেড় গুণ-দুই গুণ বাড়তে পারে। কিন্তু চার গুণ, ছয় গুণ, ১০ গুণ এটা মানুষ মেনে নেবে না। এটা সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া, তাদের অভিব্যক্তি। জনগণ এ বিষয়ে খুব উদ্বিগ্ন।’
ডা. আফসারুল আমীন বলেন, ‘এ অবস্থায় আমাদের দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কথাগুলো দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মানুষ আমাদের সংগঠনকে অনেক ভালোবাসে। সংগঠনের প্রতি মানুষের যে মমত্ববোধ ছিল সেটা যাতে ফিরে আসে- সে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য দলের যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন তাদের প্রতি অামার অনুরোধ থাকবে।’
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘মানুষ কেন পাঁচ-সাত-দশ গুণ বাড়তি কর দেবে?’ ‘আগে যেটা কর ছিল তার দ্বিগুণ হতে পারে। এটা চারগুণ হতে পারে না। চারগুণ-ছয় গুণ করবেন এটা তো মেনে নেয়া যায় না।’
প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাকর্মী আর কতজন? সাধারণ মানুষ তো লক্ষ লক্ষ। এই সাধারণ মানুষের কথাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের উদ্বেগ, উদ্বিগ্নতা দূর করতে হবে।
আওয়ামী লীগের নগর কমিটির সহ-সভাপতি ডা. আফসারুল আমীন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে আমাদের প্রাধান্য দিতে হবে। এবং এই প্রাধান্য যাতে বাস্তব রূপ পায়- সেজন্য আমাদের দলের সভানেত্রীর সহায়তা প্রয়োজন। এবং এই বিষয়ে অবশ্যই স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ আমরা কামনা করি।’
এরপর ১৬ নভেম্বর সংসদ অধিবেশনে সামগ্রিক গৃহকর নিয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, চট্টগ্রাম ৯ আসনের জাপা সাংসদ জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ বেশ কয়েকজন সাংসদ গৃহকর ইস্যুতে সংসদে বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তারা।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবিত গৃহকরের আপিল-শুনানী বন্ধের সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরে এসেছে চট্টগ্রামে। করদাতা সুরক্ষা পরিষদ, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ আনন্দ মিছিল করেছে।
এ বিষয়ে টেলিফোনে জানতে চাইলে বুধবার দুপুরে ডা. আফছারুল আমীন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘যে হারে কর ঠিক করা হয়েছিল, তাতে চট্টগ্রামের মানুষ শংকিত হয়ে পড়েছিল। তাই একটা বাস্তবতার উপর দাঁড়িয়ে সেদিন এই প্রস্তাব রেখেছিলাম। এখন মানুষ আনন্দিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চট্টগ্রামবাসী কৃতজ্ঞ।’