মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

চবিতে থমথমে পরিস্থিতি, ১৪৪ ধারার মেয়াদ বাড়ল, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১০:৩০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামে জারি করা ১৪৪ ধারার মেয়াদ আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সোমবার হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন এই আদেশ জারি করে, যা মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এদিকে, সংঘর্ষের পর থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই স্থানীয়দের অনেকে রবিবারের ব্যাপক সহিংসতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন।

হাটহাজারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন সোমবার রাতে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারার সময়কাল বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ে নির্দিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

সোমবার দুপুরে জোবরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সংঘর্ষের ঘটনায় সড়কের পাশের অনেক বাড়িঘর ও দোকানের দরজা-জানালার কাচ ভাঙা এবং টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা আবদুল মান্নান, ফারুক, আবু, জমির ও এমরানসহ অনেকে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তারা শান্তি চান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা রবিবারের সহিংসতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, “চবি প্রশাসন যদি শনিবার রাতের ঘটনার পর রবিবার সকাল থেকে ২ নম্বর গেট বন্ধ করে নিরাপত্তা জোরদার করত, তাহলে এত বড় ঘটনা ঘটত না। আমরা শুনেছি সংঘর্ষ চলাকালে চবি ভিসি একটি বিতর্কিত শিক্ষক নিয়োগের ভাইভা পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।”

উল্লেখ্য, গত শনিবার মধ্যরাতে দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাফিয়া খাতুনকে তার বাসার দারোয়ান মারধর করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর জেরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে দুই দিনব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপ-উপাচার্য, একজন প্রক্টর, সাংবাদিকসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এবং শতাধিক গ্রামবাসী আহত হন বলে জানা গেছে।

এদিকে সোমবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. আবদুল্লাহ আল মুমিন নিজে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জোবরা গ্রামবাসীদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত ও চিকিৎসাধীন ওই গ্রামের বাসিন্দা আরমান হোসেনের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন।