শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

কিরগিজস্তানে প্রতারণার শিকার ১৮০ বাংলাদেশি ফিরলেন দেশে, পাশে ব্র্যাক

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ৭:১৮ পূর্বাহ্ন


ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভনে কিরগিজস্তানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া ১৮০ জন বাংলাদেশি একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন।

বুধবার ভোর সাড়ে ৩টায় ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ফেরত আসাদের জরুরি সহায়তা দেয়।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, “বিদেশে বেশি বেতনের কাজের লোভ দেখিয়ে এই মানুষগুলোকে কিরগিজস্তানে নেওয়া হয়েছিল। অথচ সেখানে গিয়ে অনেকে কাজ পাননি, বেতন পাননি, ফলে নথিপত্রহীন হয়ে পড়েন। অনেকে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন। অনেকের পরিবার মুক্তিপণ দিতেও বাধ্য হয়েছে।”

ফিরে আসাদের একজন লালমনিরহাটের আদিতমারীর বাসিন্দা মো. শহীদুল ইসলাম (৪৫) জানান, ওয়েল্ডিংয়ের কাজে বেশি বেতনের আশায় ২০২৪ সালের ৩ জুন তিনি কিরগিজস্তানের বিশকেকে পৌঁছান। কিন্তু পরদিনই তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, “এরপর সাত মাস বেতন ছাড়াই কাজ করেছি। পরে কিরগিজ কর্তৃপক্ষের কাছে ধরা দিলে তিন মাস জেল খেটে বিশেষ বিমানে দেশে ফিরলাম।”

ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে শরীয়তপুরের সখীপুরের প্রিন্স মিয়াকে (২১) প্রথমে দুবাই ও পরে এ বছরের ১৯ মে বিশকেকে নিয়ে যায় দালাল। এজন্য তাকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও তাকে মধ্য এশিয়ার ওই দেশটির কারাগারে ৪৪ দিন আটক থাকতে হয়েছে।

কুষ্টিয়ার মিরপুরের মো. মিলন আলী (৩৮) কিরগিজস্তানে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, “ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলেও নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাইনি। টানা চার মাস বেতন না পেয়ে আমি নিজেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরা দিই। তিন মাসের বেশি সময় কারাগারে ছিলাম। তীব্র রোদে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে আমাদের সাথে।”

ব্র্যাক জানিয়েছে, বিমানবন্দরে বিদেশ ফেরতদের জরুরি সহায়তা দিতে গত আট বছর ধরে ‘ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার’ কাজ করছে। গত আট বছরে ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে সহায়তা করা হয়েছে এবং শুধু ২০২৪ সালেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪০ জন প্রবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘টিআইপি হিরো-২০২৪’ পুরস্কারে ভূষিত আল-আমিন নয়ন এবং মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা রায়হান কবিরসহ একটি দল বিমানবন্দরে এ কাজে যুক্ত ছিলেন।