
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’র প্রার্থীরা। বুধবার ভোর পর্যন্ত ১৮টি হলের ঘোষিত ফলাফলে এমন চিত্রই দেখা গেছে, এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
ভোর ৬টা পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৫৮ ভোট। জিএস পদে শিবির সমর্থিত জোটের প্রার্থী এস এম ফরহাদ ১০ হাজার ৮৯৪ ভোট পেয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের তানভীর বারী হামীম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ ভোট। এছাড়া এজিএস পদেও ৯ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন শিবির সমর্থিত জোটের মহিউদ্দীন খান।
ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতে শুরু করলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কেউ কেউ নির্বাচনে ‘পরিকল্পিত প্রহসনের’ অভিযোগ তুলে তা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন। ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান মধ্যরাতে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন। স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমাও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, জগন্নাথ হল ছাড়া বাকি প্রায় সব হলেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বিশেষ করে ছাত্রী হলগুলোতে তাদের জয়ের ব্যবধান ছিল চোখে পড়ার মতো। রোকেয়া হলে ভিপি পদে সাদিক কায়েম পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭২ ভোট, শামসুন্নাহার হলে ১ হাজার ১১৪ এবং সুফিয়া কামাল হলে ১ হাজার ২৭০ ভোট। ছাত্র হলগুলোর মধ্যে বিজয় একাত্তর, মুহসীন, সূর্যসেন ও বঙ্গবন্ধু হলেও বড় জয় পেয়েছে শিবির সমর্থিত জোট।
তবে ব্যতিক্রমী ফলাফল দেখা গেছে জগন্নাথ হলে, যেখানে ভিপি পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ১ হাজার ২৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন এবং জিএস পদে জয় পেয়েছেন প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থী মেঘমল্লার বসু। এই হলে শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম মাত্র ১০ ভোট পান।
যে ১৮টি হলের ফল ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলো হলো- শামসুন্নাহার, মুহসীন, এফ রহমান, রোকেয়া, এসএম, জহুরুল হক, জগন্নাথ, শহীদুল্লাহ, ফজলুল হক মুসলিম, অমর একুশে, সুফিয়া কামাল, জসিম উদ্দীন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সূর্যসেন, কুয়েত মৈত্রী, বিজয় একাত্তর এবং শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব হল।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন এবং ১৮টি হল সংসদে ২৩৪টি পদের বিপরীতে ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।