শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বাড়ল এনজিওর বিদেশি তহবিল

বিদেশি অনুদান ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালেও সংকটে ছোট এনজিও
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২:১৩ অপরাহ্ন


ইউএসএআইডির তহবিল স্থগিতের পরও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, তহবিল ছাড়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং টাকার অবমূল্যায়নের মতো কয়েকটি কারণে গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বাংলাদেশে বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) বিদেশি অনুদান ২১ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৯ হাজার ২২০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এর আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) বিদেশি অনুদানের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৬০১ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা রেখে দাতারা আবারও বাংলাদেশে তহবিল বাড়াতে আগ্রহী হয়েছে। এ ছাড়া এনজিও ব্যুরোর তহবিল ছাড়ের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় অনুদানের প্রবাহ বেড়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণেও বিদেশি অনুদানের পরিমাণ স্থানীয় মুদ্রায় বেশি দেখাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের সময় গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের মতো খাতে এনজিওগুলোর তহবিল পেতে বেগ পেতে হলেও বর্তমান সরকারের অধীনে এসব ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

এনজিও ব্যুরোর তথ্যমতে, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি তহবিল এসেছে স্বাস্থ্য খাতে (২,৭২৬ কোটি টাকা), এরপরই রয়েছে শিক্ষা (১,২৬৯ কোটি টাকা), সামাজিক উন্নয়ন (৭৫০ কোটি টাকা) এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন (৭১১ কোটি টাকা)।

তবে সার্বিক অনুদান বাড়লেও ইউএসএআইডির তহবিল কর্তনের প্রভাব পড়েছে এনজিও খাতে। এ বছরের ২০ জানুয়ারি সংস্থাটির তহবিল স্থগিতের পর কয়েক হাজার উন্নয়নকর্মী চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও এই তহবিল কর্তনের পুরো প্রভাব চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) থেকে আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন এনজিও ব্যুরোর কর্মকর্তারা।

অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশের (এডাব) পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, “অধিকাংশ ছোট এনজিও তহবিল সংকটে রয়েছে। নারী অধিকার বা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারি কিছু প্রকল্পে সহায়তা মিললেও ক্ষুদ্র সংস্থাগুলো টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে।”

এদিকে, ইউএসএআইডির তহবিল কমার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিশ্বব্যাংক এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছে এনজিওগুলো। তবে রোহিঙ্গা তহবিল গত অর্থবছরের ৭৭৯ কোটি টাকা থেকে প্রায় অর্ধেকে নেমে ৩৮৭ কোটি টাকা হয়েছে, যা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সংকট আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।