মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

সীতাকুণ্ডে দোকান-বাড়িতে হামলা-লুট, ‘ইয়াছিন বাহিনীর’ বিরুদ্ধে কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ

ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীর ভয়ে পরিবার নিয়ে ‘মানবেতর জীবন’ যাপনের কথা জানালেন ব্যবসায়ী রাজু
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১২:২২ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক ব্যবসায়ীর দুটি দোকান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাট চালিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে ‘পাহাড়খেকো’ হিসেবে পরিচিত ইয়াছিন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান রাজু শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, জঙ্গল সলিমপুরের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইয়াছিনের ভয়ে তিনি পরিবার নিয়ে এখন ‘মানবেতর জীবনযাপন’ করছেন।

তিনি অবিলম্বে ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর বাস্তহারা দলের সাধারণ সম্পাদক রাজু এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

রাজু অভিযোগ করে বলেন, “গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ইয়াছিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমার ছিন্নমূল গোলাপের দোকানের মোড়ের দোকানে হামলা চালায়। তারা দোকান ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে। দোকানের সামনে থাকা আমার দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।”

তিনি বলেন, “এর পরদিন ৩১ আগস্ট দুপুরে আমার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। আলমারিতে রাখা আমার স্ত্রীর তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। একই রাত পৌনে ২টার দিকে আমার দ্বিতীয় দোকানেও হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করা হয়।”

সব মিলিয়ে তার প্রায় ৯৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন এই ব্যবসায়ী।

এসব ঘটনায় তার স্ত্রী রুনা আক্তার বাদী হয়ে ইয়াছিনসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।

রাজু বলেন, “মামলা হলেও ইয়াছিন ও তার সহযোগীরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এতে তারা আরও হিংস্র হয়ে উঠেছে। বর্তমানে আমি পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি, মানবেতর জীবনযাপন করছি।”

‘আলী নগরের’ নিয়ন্ত্রক ইয়াছিন

সংবাদ সম্মেলনে ইয়াছিনের উত্থানের বিষয়ে বলা হয়, নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে প্রায় দুই দশক আগে সহযোগী ফারুককে নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন ইয়াছিন। প্রথমে অটোরিকশা চালালেও পরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বসতি গড়েন।

সেখানে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি, অবৈধ প্লট তৈরি ও বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান এবং নিজের নিয়ন্ত্রিত এলাকার নাম দেন ‘আলী নগর’।

অভিযোগ করা হয়, ‘আলী নগরে’ বাইরের কারও ঢুকতে বা বের হতে ইয়াছিনের অনুমতি লাগত। বহিরাগতদের ভোটার আইডি কার্ড ও মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জমা দিতে হতো। আর স্থানীয়দের চলাচলের জন্য ছিল ইয়াছিনের স্বাক্ষরযুক্ত বিশেষ পাসকার্ড। এলাকায় পুলিশে অভিযোগ বা মামলা করা ছিল নিষিদ্ধ; সবকিছুর বিচার হতো ইয়াছিন-ফারুকের ‘আদালতে’।

রাজু আরও জানান, ইয়াছিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, হামলা ও পরিবেশ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের ৭-৮টি, ভুক্তভোগীদের করা ৮টি, ২০২২ সালে সাবেক জেলা প্রশাসক মমিনুল রহমানের নেতৃত্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে হামলার ঘটনায় ৭টি এবং ২০১৭ সালে দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ২০২৫ সালে র‌্যাবের ওপর হামলার ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ব্যবসায়ী রাজু তার ও পরিবারের নিরাপত্তায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ সময় রাজুর স্ত্রী রুনা আকতার, সার্ভেয়ার মুজিবুর রহমান, জামাল উদ্দিন, মাইমা, রাশেদা আকতার, আবদুল হালিম, পান্না মল্লিক, আবদুল শুক্কুরসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।