সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

হাটহাজারীতে পৃথক আগুনে পুড়ল ৩ বসতঘর, ওষুধের দোকান

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৮ অক্টোবর ২০২৫ | ৩:০৫ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পৃথক দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনটি পরিবারের বসতঘর এবং একটি ওষুধের দোকান পুড়ে গেছে।

শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নে রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুন লেগে তিনটি ঘর ভস্মীভূত হয়। একই রাতে পৌরসভার কলেজ গেট এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে একটি বন্ধ ওষুধের দোকানে আগুন লাগে।

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল মান্নান দুটি ঘটনারই সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

দক্ষিণ মাদার্শার ঘটনা

ফায়ার সার্ভিস জানায়, শুক্রবার রাত ২টার দিকে দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মুছা মেম্বারের বাড়ির অনিল শীলের ঘরে রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে অনিল শীলের তিন ছেলে—বিশ্বনাথ শীল, আশিষ শীল ও রাজিব শীলের ঘরসহ মোট ৯টি কক্ষ পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তার আগেই ঘরগুলোর আসবাবপত্র, শিক্ষার্থীদের বইপত্রসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মুছা (মুছা মেম্বার) জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ১৫ কেজি চাল ও প্রয়োজনীয় সাংসারিক সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে এবং এলাকাবাসীও তাদের সহায়তা করছেন।

কলেজ গেটের ঘটনা

অন্যদিকে, শুক্রবার রাতেই হাটহাজারী পৌরসভার কলেজ গেট এলাকায় ফায়ার সার্ভিস অফিসের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের পাশে ‘এফ এ মেডিসিন’ নামের একটি বন্ধ ওষুধের দোকানে আগুন লাগে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দোকানের শাটারের তালা ভেঙে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

দোকানটির স্বত্বাধিকারী ফরহাদ আহমেদ বাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উভয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান।