সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে হাটহাজারীতে হেফাজতের বিক্ষোভ

ইমাম ‘গুমের’ জন্য সংগঠনটিকে দায়ী করে দেশব্যাপী প্রতিরোধের ডাক
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৫ | ৫:৫৭ অপরাহ্ন


‘উগ্র হিন্দুত্ববাদী’ সংগঠন ইসকনকে নিষিদ্ধ এবং দেশব্যাপী প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। টঙ্গীর এক মসজিদের ইমামকে ‘গুম’ করার জন্য সংগঠনটিকে দায়ী করে অবিলম্বে দোষীদের বিচারের দাবিও জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর হাটহাজারী পৌরসভার ডাক বাংলো চত্বরে হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী অভিযোগ করেন, ইসকন “ইন্ডিয়ার এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানা অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতায় লিপ্ত”।

তিনি বলেন, টঙ্গীর বিটিসিএল কলোনি মসজিদের ইমাম মাওলানা মহিবুল্লাহ মিয়াজীকে জুমার খুতবায় ‘সত্য বলার কারণে’ ইসকন হুমকি দেয় এবং পরে গুম করে। ওই ইমামকে পরে পঞ্চগড়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে তিনি দাবি করেন।

মাওলানা নিজামপুরী আরও বলেন, “এদেশের মুসলমানরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত কোনো অপরাধীর জুলুমের শিকার হলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বিবৃতি আসে না। বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মুসলমানদের নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকার নীরব থেকেছে।” তিনি ইসকনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও তোলেন, যা অতীতে প্রবর্তক সংঘ এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কর্তৃকও উল্লেখিত হয়েছে বলে জানান।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও হাটহাজারী উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতী মুহাম্মদ আলী কাসেমী সভাপতির বক্তব্যে বলেন, “ইসকন মুসলমান ও সনাতনী সম্প্রদায় উভয়েরই শত্রু। সম্প্রীতি রক্ষার্থে মুসলমান ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আমরা সারা দেশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ইসকনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব শায়খুল হাদীস মাওলানা জাফর আহমদ।

উপজেলা হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার ও মাওলানা আসাদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা হাফেজ আলী আকবর, মাওলানা মাহমুদ হোসাইন, মাওলানা শফিউল আলম; উপজেলা সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা ওজাইর আহমদ হামিদি, মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ; এবং মোরশেদ আলম, আবু তাহের রাজিব, মাওলানা মহিউদ্দীন, হাফেজ মো. জাকারিয়া, মাওলানা জিয়াউল হক, এইচ এম শহীদ, মাওলানা আমিনুল ইসলাম ও মাওলানা ওবাইদুর রহমান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।