সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

‘চাঁদা না দিলেই’ গাড়ি ধরে পুলিশ, সাতকানিয়ায় চালকদের বিক্ষোভ

‘৮০০ টাকাও রোজগার হয় না, উল্টো পুলিশকে চাঁদা’
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | ১:৩০ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ‘টোকেন বাণিজ্য’ ও মাসিক চাঁদা না পেয়ে গাড়ি আটকের অভিযোগে দুই ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। অভিযুক্তরা হলেন সদ্য বদলি হয়ে আসা এটিএসআই শাহীন ও সার্জেন্ট রিয়াজ রহমান পাটওয়ারী।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে শত শত চালক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঠাকুর দিঘী ছগির আহমদ পেট্রোল পাম্পের সামনে প্রায় ১০ মিনিট সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যানজট সৃষ্টি হয়।

পরে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের দুটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

অটোরিকশা চালকদের অভিযোগ, কেরানীহাট ট্রাফিক পুলিশ বক্স এখন ‘টোকেন বাণিজ্যের আড্ডাখানা’ হয়ে উঠেছে। প্রতি গাড়ি থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এবং কেউ টাকা না দিলে নানা অজুহাতে গাড়ি আটক করে হয়রানি করা হচ্ছে। অপরদিকে, নিয়মিত ‘টোকেন’ দেওয়া গাড়িগুলো মহাসড়কে চললেও তাদের আটক করা হচ্ছে না।

সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. বাপ্পী বলেন, “কেরানীহাটের ট্রাফিক এটিএসআই শাহীন আর সার্জেন্ট রিয়াজ রহমান পাটওয়ারী একসাথে টোকেন বাণিজ্য চালাচ্ছেন। মাসোহারা না দিলে গাড়ি আটকে দেন, মামলা দেন, কখনও গাড়ির চাবি নিয়ে বসে থাকেন। কিন্তু যারা টাকা দেয়, তাদের গাড়ি মহাসড়কে ইচ্ছেমতো চলছে।”

অবরোধে অংশ নেওয়া মো. এহছান বলেন, “আমরা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করি, দিনে ৮০০ টাকাও ঠিকমতো রোজগার হয় না। কিন্তু মাসে মাসে সড়কে পুলিশকে দিতে হয় টাকা। না দিলে রাস্তায় নামলেই ঝামেলা। ট্রাফিকের শাহীন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সে সমিতির কাছ থেকে টাকা পায়, তাঁদের গাড়ি ধরবে না। সমিতির আওতায় না থাকা কোনো সিএনজি অটোরিকশা কেরানীহাটে আসলে ট্রাফিক পুলিশ শাহীন ধরে।”

চালকদের দাবি, কেরানীহাট ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে শত শত অবৈধ গাড়ি সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকলেও পুলিশ তাদের দিকে তাকায় না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিএসআই শাহীন বলেন, “মহাসড়কে বিশৃঙ্খল গাড়ি ধরেই সার্জেন্টের কাছে দিই, এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোনো ধরনের টুকেন বাণিজ্যের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। লোহাগাড়ায় থাকাকালে কাগজপত্র ছাড়া গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ কেউ মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।”

সাতকানিয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ (টিআই) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “আমরা কোনো ধরনের টোকেন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নই। এটিএসআই শাহীন সদ্য লোহাগাড়া থেকে বদলি হয়ে এসেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি আজই শুনেছি।”