
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় আয়োজিত স্মরণসভায় আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন তার বড় ছেলে ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী।
ফাঁসির রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, একদিকে বাবার সঙ্গে কথা বলছি, সুস্থ-জীবিত একজন মানুষ। আর অন্যদিকে তার জন্য খোঁড়া হচ্ছিল দুটি কবর। ফাঁসির দুই ঘণ্টা আগে আমরা বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাই। তখনই কবর দুটি খোঁড়া হচ্ছিল।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কাদের নগরে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় ফাইয়াজ কাদের বলেন, সবাই জানতেন ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে হিসেবে বাবাকে রাউজানেই দাফন করা হবে। কিন্তু বাবা চেয়েছিলেন রাঙ্গুনিয়ার মাটিতেই থাকতে। সেই অধিকার থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
বাবার মুক্তির জন্য চালানো প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে ফাইয়াজ কাদের অভিযোগ করেন, বাবাকে বাঁচাতে বহুজনের কাছে গিয়েছি, সবাইকে বলেছি তিনি নির্দোষ। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের কারণে কেউ কিছু করতে পারেনি। শেষের দিকে ভেবেছিলাম, বাবাকে হয়তো আর বাঁচানো যাবে না, অন্তত তার সম্মানটা কীভাবে রক্ষা করা যায় সেটাই চিন্তা করেছি।
তিনি বলেন, বাবা একফোঁটা চোখের পানি ফেলেননি, কিন্তু তার চোখ লাল ছিল। আমাকে বলেছিলেন, ‘বাবা, ইজ্জতের মালিক আল্লাহ।’ আজ ১০ বছর পর সেই কথার সত্যতা দেখতে পাচ্ছি। নতুন প্রজন্ম সত্যকে চিনেছে।
ছোট ভাই হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রার্থিতা প্রসঙ্গে ফাইয়াজ বলেন, বাবার নির্বাচনে পরিবারের সবাই থাকতেন। কিন্তু হুম্মামের নির্বাচনে পরিবারের প্রয়োজন পড়বে না। কারণ রাঙ্গুনিয়ায় তাদের হাজারো ভাই-বোন ও মুরুব্বি আছেন, যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
একই স্মরণসভায় চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, সাধারণত বক্তব্য শেষে তাকবির দিই, কিন্তু আজ ভাইয়ের কথা শুনে মনটা ভারী হয়ে গিয়েছিল। তাই শুরুতেই তাকবির দিয়ে মনটা শান্ত করেছি।
বাবার শেষ বার্তা স্মরণ করে হুম্মাম বলেন, শেষবার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—মানুষ জানতে চাইছে, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কি না? বাবার উত্তর ছিল—‘চট্টগ্রামের মানুষ আমাকে ৪০ বছর যে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছে, যদি পারতাম আমার কলিজাটা তাদের দিয়ে দিতাম।’
তিনি আরও বলেন, আমার মা পরবর্তীতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমার স্বামী যদি পারতেন তার কলিজা চট্টগ্রামের মানুষকে দিয়ে দিতেন। আজ আপনাদের সামনে বলতে চাই, আমার মায়ের স্বামী শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার কলিজার অংশ হিসেবে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে আপনাদের কাছে দিয়ে গেছেন।