শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো উদ্বেগজনক

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:১১ পূর্বাহ্ন


রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। হৃদ্‌যন্ত্র, লিভার, কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতা এখনো কাটছে না। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার যুক্তরাজ্য ও চীন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ঢাকায় পৌঁছে তাকে দেখার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসায় একটি সমস্যার সামান্য উন্নতি হলে অন্যটির অবনতি ঘটছে, যা চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তুলেছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন এবং ওষুধ কাজ করছে।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) ঘোষণার পর তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। মঙ্গলবার দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে এসএসএফ সদস্যরা তাকে নিরাপত্তা দেওয়া শুরু করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতাল ও লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, বুধবার সকালে যুক্তরাজ্য থেকে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ঢাকায় পৌঁছাবে। এছাড়া চীন থেকেও একটি চিকিৎসক দল বিকেল নাগাদ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে চীনের পাঁচ সদস্যের একটি অগ্রবর্তী দল ঢাকায় অবস্থান করছে। এই বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করেই খালেদা জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসা দেশেই চলবে, নাকি তাকে লন্ডনে নেওয়া হবে—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপি নেতা ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ভারত চিকিৎসার বিষয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।

শারীরিক অবস্থা নিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, খালেদা জিয়া তা গ্রহণ করতে পারছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ থাকা সংক্রান্ত গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার সব প্রস্তুতি দলের রয়েছে। তবে রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে এই মুহূর্তে কিছু করার সুযোগ নেই।

এদিকে দলীয় প্রধানের অসুস্থতার খবরে হাসপাতালে ভিড় করছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিকেলে ডা. জাহিদ হোসেনকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ও অশ্রুসিক্ত চোখে হাসপাতাল থেকে বের হতে দেখা গেছে।

হাসপাতাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান জানানো হলেও নেতাকর্মীদের উৎকণ্ঠা কমছে না।

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে তাকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়। গত রোববার ভোররাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।