শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

থানায় বসে হ্যান্ডকাফ পরা ছবি ও পুলিশকে নিয়ে ট্রল, ছাত্রলীগ নেতার কাণ্ডে তোলপাড়

ওসি বললেন, ‘মোবাইল ছিল অন্তর্বাসে’
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৮:১০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় ফেসবুকে ছবি ও স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। থানা হাজতে বসে হ্যান্ডকাফ পরা ছবি এবং কর্তব্যরত পুলিশের ঘুমানোর দৃশ্য ফেসবুকে পোস্ট করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ওই নেতা।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে গ্রেপ্তারের পর এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত দুই দিনে পটিয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠনটির তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

গ্রেপ্তার শেয়াইব-উল ইসলাম ফাহিম (২১) উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ওই এলাকার আবুল বশরের ছেলে। এর আগে পুলিশ সৌরভ মুখার্জি ও মো. মাসুদ নামের অপর দুই ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পটিয়া পৌর সদরের কাগজী পাড়া এলাকা থেকে ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

থানায় বসে ‘বিনোদন’ ও স্ট্যাটাস গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে থাকাকালেই ফাহিম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একের পর এক স্ট্যাটাস ও ছবি পোস্ট করতে থাকেন।

একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আমি পটিয়া থানায়। দেখা হবে আবারও, ফিরবো বীরের বেশে কোনো একদিন জয়বাংলা।”

কিছুক্ষণ পর হ্যান্ডকাফ পরা নিজের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, “এই দিন দিন নয়, দিন আরও আছে।”

সবচেয়ে বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যের ঘুমানোর ছবি পোস্ট করে দেওয়া ক্যাপশনটি। সেখানে তিনি লেখেন, “ঘুম ভালোবাসিরেএএএ…. জীবন যেমনই হোক বিনোদন মিস করা যাবে না।”

নিষিদ্ধ সংগঠনের একজন নেতা পুলিশ হেফাজতে থাকাবস্থায় কীভাবে মোবাইল ব্যবহার করলেন এবং এমন স্পর্শকাতর ছবি পোস্ট করলেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার অভিযোগ তুলছেন অনেকে।

পুলিশের ভাষ্য

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “পুলিশের অগোচরে নিজের অন্তর্বাসে মোবাইল লুকিয়ে রেখেছিল গ্রেপ্তারকৃত শেয়াইব। পরে বিষয়টি নজরে এলে মোবাইলটি জব্দ করা হয়।”

পুলিশি হেফাজতে আসামির সেলফি তোলা ও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকার বিষয়ে সমালোচনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।