
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাতভর বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের পর শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সহিংসতা এড়াতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার রাতে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের চশমা হিলের বাসায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের বাসভবন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় রাতে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে নগরীর দুই নম্বর গেট ও বিপ্লব উদ্যান এলাকায় হাজারো ছাত্র-জনতা জড়ো হতে শুরু করেন। সেখানে তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা নগরীর চশমা হিল এলাকায় পলাতক সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে হামলা চালায়। এ সময় সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর খুলশীতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জনের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে কয়েক হাজার মানুষ। রাত ১টা পর্যন্ত তারা সেখানে সড়ক অবরোধ করে রাখে। রাত দেড়টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সহকারী হাই কমিশনারের বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সহকারী হাই কমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে নিরাপত্তার আশ্বাস দেন।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর খুলশী, চশমা হিল, দুই নম্বর গেট, হালিশহর ও কাজীর দেউড়ি এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলো বন্ধ রয়েছে। ছুটির দিন হলেও রাস্তায় গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল অন্যান্য দিনের তুলনায় একেবারেই কম। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে পুলিশ জানায়, নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, ডিবি ও র্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল দল মাঠে রয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহন ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।