
স্বাধীনতার পর থেকে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সংস্কার হয়নি ফটিকছড়ির ধর্মপুর ইউনিয়নের ‘চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ সড়ক’। অবশেষে সরকারি অনুদানের আশা ছেড়ে দিয়ে ‘হাত চাঁদা’ তুলে নিজেরাই সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের কাজ এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এমন অনন্য উদ্যোগ দেখে অবশেষে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই সড়কটি কোটের পাড়ের পশ্চিম পাশে বড়ুয়া পাড়া সংলগ্ন এলাকা থেকে আয়নাওয়ালা জামে মসজিদ হয়ে আজাদী বাজার মাদ্রাসা পর্যন্ত বিস্তৃত। এলাকাবাসীর বিকল্প যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হলেও স্বাধীনতার পর থেকে এটি চরম অবহেলিত ছিল। দীর্ঘদিনেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোরশেদুল আলমের নেতৃত্বে স্থানীয় যুবকরা একটি সড়ক উন্নয়ন কমিটি গঠন করেন।
সড়ক উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য মো. মোরশেদুল আলম জানান, গত ২৫ অক্টোবর থেকে সড়কের কাজ শুরু হয়। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সড়কের প্রায় এক হাজার ফুট ঢালাই কাজ শেষ হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। পুরো কাজ শেষ করতে প্রায় দেড় কোটি টাকা প্রয়োজন। আর্থিক সংকট দেখা দিলেও এলাকাবাসী, প্রবাসী এবং বিত্তবানদের সহায়তায় কাজ এগিয়ে চলছে।
ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন ক্ষোভ ও আনন্দ মেশানো কণ্ঠে বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকা করার দাবি ছিল, কিন্তু তা অরণ্যে রো দনে পরিণত হয়। কয়েক মাস আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, হাত চাঁদা তুলে হলেও সড়কটি পাকা করব। এখন সরকারের সাহায্য ছাড়াই আমাদের দেড় কিলোমিটার পাকা সড়ক হচ্ছে, এতে মনের কষ্ট দূর হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক নির্মাণকাজে স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। শ্রমিকদের সঙ্গে এলাকাবাসীও হাত লাগাচ্ছেন। কেউ পানি বা চা খাওয়াচ্ছেন, আবার নারীরাও পান-সুপারি নিয়ে আপ্যায়ন করছেন। পুরো এলাকায় যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
কমিটির সদস্য মো. এমরান উদ্দিন বলেন, সরকার পাশে না থাকলেও আমরা সরকারের পাশে আছি—এটা আমরা প্রমাণ করে দেব। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানরাও সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। প্রবাসী মো. আবদুল ওহাব বলেন, জীবনভর সড়কটি এলাকার দুঃখ হিসেবে পরিচিত ছিল। এলাকার যুবসমাজ সেই দুঃখ ঘুচিয়ে দিয়ে প্রমাণ করল, ভালো কাজের উদ্যোগ অর্থের অভাবে আটকে থাকে না।
ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, সড়কটি উন্নয়নের জন্য পরিষদ থেকে দুইবার কিছু অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরে আরও সহায়তা চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার লেখা হলেও কাজ হয়নি। আমাদের যুবসমাজ দেখিয়ে দিয়েছে সরকারের সাহায্য ছাড়াও উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন সম্ভব।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, এটি একটি চমৎকার কাজ। যুবসমাজ ইচ্ছা করলে যে পুরো দেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারে, এটি তার প্রমাণ। তারা দেখিয়েছেন সরকারের সাহায্য ছাড়াও অনেক কাজ হয়। তিনি সড়কটি পরিদর্শন করে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দেন।