
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই ভর্তিযুদ্ধে এবার প্রতিটি আসনের জন্য লড়াই করেছে ১৫ জন শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি বিভাগের মোট ৯৩১টি আসনের বিপরীতে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ হাজার ৯৯ জন শিক্ষার্থী। মোট আসনের মধ্যে ১১টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে; যার মধ্যে একটি রাখাইন সম্প্রদায়ের জন্য এবং ১০টি পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ।
পরীক্ষা আয়োজক কমিটি জানায়, সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিরতি দিয়ে দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত চলে মুক্তহস্ত অঙ্কন পরীক্ষা।
মূল কেন্দ্র চুয়েট ক্যাম্পাস ছাড়াও নগরীর আরও দুটি উপকেন্দ্রে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। কেন্দ্র দুটি হলো—সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ।
পরীক্ষা চলাকালে চুয়েট কেন্দ্রের বিভিন্ন হল পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। তিনি পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে চুয়েট ক্যাম্পাসে ছিল সাজ সাজ রব। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বরণ করে নিতে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। চুয়েট কর্তৃপক্ষ ও আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা আগতদের সহায়তায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সেবা দিতে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জেলার ব্যানারে স্টল সাজিয়ে বসেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা প্রদান করেন।
এছাড়া পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।