মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

ফটিকছড়িতে সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা কি টিকবে?

বৃহস্পতিবার ব্যাংক কর্মকর্তাদের জবানবন্দিই ভরসা
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২০ জানুয়ারী ২০২৬ | ৭:৪৮ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটের শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। ওইদিন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের বক্তব্য শোনার পর আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালতে সরওয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

শুনানি শেষে আইনজীবী ফয়সল মাহমুদ ফয়জী বলেন, “সরওয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি নন। বিধি মোতাবেক তিনি ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করেছেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিন তাকে অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ করছেন।”

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার আংশিক শুনানি হয়েছে। আদালত বিষয়টি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি রেখেছেন এবং ওইদিন ব্যাংকের বক্তব্য শুনবেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা গেছে, রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে একই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুল আমিন তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। সেই আপিলের শুনানি শেষে কমিশন সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপি প্রার্থী।

আপিল বিভাগে জামায়াত প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ

এদিকে, বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতে মঙ্গলবার চেম্বার জজ আদালতে আরও একটি সিভিল পিটিশন (নম্বর-২৮২/২০২৬) দায়ের করেছেন জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন। এই পিটিশনে ‘হালদা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে। জামায়াত প্রার্থীর দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানটি ঋণখেলাপি।

শুনানি শেষে চেম্বার জজ রেজাউল হক পিটিশনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে প্রেরণ করেন। আগামী বৃহস্পতিবার এই পিটিশনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে সরওয়ার আলমগীরের আইনজীবী ফয়সল মাহমুদ ফয়জী দাবি করেন, “হালদা এন্টারপ্রাইজের সিআইবি রিপোর্ট হালনাগাদ রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি ঋণখেলাপি নয়।”

এর আগে সোমবারও (১৯ জানুয়ারি) হাইকোর্টের দেওয়া একটি স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন সিভিল পিটিশন দায়ের করেছিলেন। তবে চেম্বার জজ আদালত সেটিতে ‘নো-অর্ডার’ দিয়ে পিটিশনটি রিলিজ করে দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফটিকছড়ি আসনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এই আইনি লড়াই এখন হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ—উভয় ক্ষেত্রেই বিচারাধীন। বৃহস্পতিবারের শুনানির ওপর নির্ভর করছে সরওয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ভাগ্য।