সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পনেরো বছর, এক পরামর্শক: ই-জিপির কারিগরি দায়িত্ব যাঁদের হাতে

শরীফুল রুকন | প্রকাশিতঃ ২১ অগাস্ট ২০২৬ | ৮:০৬ অপরাহ্ন


বাংলাদেশের সরকারি কেনাকাটার ডিজিটাল ব্যবস্থাটি রাষ্ট্রের। কিন্তু সফটওয়্যারটি তৈরি ও পরিচালনার কাজ ২০১০ সাল থেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে- দোহাটেক নিউ মিডিয়া। তথ্যটি গোপন কিছু নয়; প্রতিষ্ঠানটির নিজের ওয়েবসাইটেই চুক্তিগুলোর তালিকা প্রকাশিত।

তালিকাটি যা বলছে

সিস্টেম তৈরি থেকে শুরু করে পরিচালনা- ১২ বছরে ছয়টি চুক্তি, মাঝে কোনো ফাঁক নেই। তালিকাটি শেষ হয়েছে জুন ২০২২-এ; তার পরের সময়ের কোনো চুক্তির উল্লেখ ওয়েবসাইটে নেই।

প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে যেভাবে দেখে

দোহাটেক নিজেদের বর্ণনা করে ই-জিপির “লিড কনসালট্যান্ট” হিসেবে, আর ব্যবস্থাটির “মালিক ও পরিচালক” হিসেবে উল্লেখ করে বিপিপিএকেই। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এ পর্যন্ত পোর্টালে দরপত্র উঠেছে ১১ লাখেরও বেশি, চুক্তি হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার, আর ব্যবহারকারী ৪৭টি মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ৫৪৯টি সরকারি সংস্থা। বিশ্বব্যাংকের বরাত দিয়ে সেখানে দাবি করা হয়েছে, ই-জিপি বাংলাদেশের বছরে দেড় বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করে।

সাফল্যের এই হিসাব নিয়ে এই প্রতিবেদনের কোনো দ্বিমত নেই। ডিজিটাল ব্যবস্থাটি না থাকলে চট্টগ্রামের তিন মাসের ২ হাজার ১৮৫টি চুক্তির নথি একজন সাংবাদিকের পক্ষে দেখাই সম্ভব হতো না।

তবু প্রশ্নটি থেকে যায়

এই সিরিজে ধরা পড়া ত্রুটিগুলো- চুক্তির আগের তারিখে কাজ “শেষ” দেখানো, ঠিকাদারের নামের ঘরে সংখ্যা, ঘর ফাঁকা থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৯৭০ সাল বসে যাওয়া, সংশোধনের ইতিহাস সংরক্ষিত না হওয়া- এর কোনোটিই তথ্য তোলার ভুল নয় কেবল; প্রতিটির সঙ্গে সফটওয়্যারের নকশার সম্পর্ক আছে।

আর নকশা বদলানোর সিদ্ধান্ত কার- এই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার সাধারণ নীতিতে একটি প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে সিস্টেমটি তৈরি ও পরিচালনা করলে স্বাধীন নিরীক্ষার সুযোগ সংকুচিত হয়- এই উদ্বেগ বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই তুলছেন। ঠিক এ কারণেই বড় সরকারি ব্যবস্থায় নির্মাতা ও নিরীক্ষক আলাদা রাখার চর্চা।

যা জানতে চাওয়া হয়েছিল

১৭ আগস্ট দোহাটেক ও বিপিপিএ- দুই পক্ষের কাছেই লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়। জানতে চাওয়া হয়: বর্তমান চুক্তিটি কোন ক্রয়পদ্ধতিতে হয়েছে; সোর্স কোড ও ডাটাবেজের মালিকানা কার; বিপিপিএর অফিস পরিসরে বাইরের প্রতিষ্ঠানের কতজন কর্মী কাজ করেন; প্রডাকশন ডাটাবেজে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রবেশাধিকার কাদের; অডিট লগ কে সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা করেন; এবং এই সিরিজে ধরা পড়া পাঁচটি ত্রুটি সারানোর কাজ চলমান কি না।

দুটি চিঠিতেই লেখা ছিল, অসঙ্গতিগুলোর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হচ্ছে না; জানতে চাওয়া হচ্ছে দায়িত্বটি কোথায়।

২১ আগস্ট এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই লিখিত জবাব আসেনি।

মূল প্রতিবেদন: সরকারি কেনাকাটা: তারিখ যা খুশি লেখা যায়, কেউ আটকায় না