গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় ‘সন্দেহভাজন’ জাকির হোসেন শাওন আজ শুক্রবার দুপুরে মারা গেছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
জাকিরের বাবা আবদুস সাত্তার হাসপাতাল থেকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন।
৪ জুলাই জাকিরের মা-বাবা ছেলেকে খুঁজতে আর্টিজানের সামনে ছবি নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা বলেন, হামলার পর থেকে জাকিরকে তাঁরা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাঁর (শাওন) খোঁজে অভিভাবকেরা কয়েকবার গুলশান থানার পুলিশের কাছে গেছেন। পুলিশ ইউনাইটেড হাসপাতালে জাকিরকে খোঁজার কথা বলে। সেখানে গিয়েও তাঁরা ছেলেকে পাননি।
৩ জুলাই রাত দেড়টা পর্যন্ত তাঁরা গুলশান থানায় বসে ছিলেন। কিন্তু পুলিশ জাকিরের কোনো খোঁজ দিতে পারেননি।
মা-বাবার কাছে থাকা জাকিরের ছবি দেখে ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকেরা রক্তাক্ত অবস্থায় এক তরুণকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ে যাওয়ার ছবিটি দেখান।
পরে ওইদিন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক জানান, হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তিনি কারও নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি।
এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাকিরকে ৩ জুলাই রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্র বলেছে, তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে আনা হয়।
তবে জাকিরের বাবা আব্দুস সাত্তার ও মাহমুদা বেগম দাবি করেছেন, তাঁদের ছেলে হলি আর্টিজানে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
রেস্তোরাঁর হিসাবরক্ষণ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাজেদুর রহমান ৪ জুলাই বলেন, জাকিরকে তাঁরা হাসপাতালে শনাক্ত করেছেন। তাঁকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা গত শুক্রবার রাতের বিভিন্ন সময় তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জন জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক।